ইবি শিক্ষক তন্ময় সাহার বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতাসহ নানা অভিযোগ, প্রতিবাদে ক্লাস বর্জন

by অনলাইন ডেস্ক
Site Favicon প্রকাশিত: ০৪ মার্চ ২০২৬ ২০:৪৩
A+A-
Reset

পরীক্ষায় ইন্টার্নাল মার্কে দ্বিচারিতা, ফলাফল ‘ভ্যানিশ’ করার ভয়ভীতি, ডমিনেট করার চেষ্টা ও শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত বিষয়ে হস্তক্ষেপসহ একাধিক অভিযোগ উঠেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগের শিক্ষক তন্ময় সাহা জয়ের বিরুদ্ধে। ফলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের ক্লাস বর্জন করেছে বিভাগটির ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা। 

এ নিয়ে আজ রোববার বিভাগটির সভাপতি ড. মো. রাশিদুজ্জামান বরাবর তিন দফা দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো- তন্ময় সাহা জয় স্নাতক চতুর্থ বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টার থেকে স্নাতকোত্তরের ফলাফল প্রকাশ পর্যন্ত কোনো অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমে (ক্লাস, পরীক্ষা, মৌখিক পরীক্ষা, খাতা মূল্যায়ন, পূণর্মূল্যায়ন) অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারবেন না। অ্যাকাডেমিক স্বার্থে আঘাত আসতে পারে এমন কোনো আশংকা দেখা দিলে বিভাগ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তার সভাপতিত্ব চলাকালে ব্যাচের অ্যাকাডেমিক কোনো জটিলতা যেন সৃষ্টি না হয় সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ যথাযথ ভূমিকা পালন করবে।

স্মারকলিপিকে তারা আরও বলেন, আমরা শিক্ষক তন্ময় সাহা জয়ের ক্লাস করতে অনিচ্ছুক। এ নিয়ে বিভাগীয় সভাপতির সঙ্গে আলোচনা করেছি। আমাদের সঙ্গে কোনো ব্যক্তিগত সমস্যা কিংবা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নেই। স্যার আমাদের ক্লাস নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন, সেই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা তার ক্লাস বর্জন করেছি। পরবর্তী পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা আমাদের সিদ্ধান্তে স্থির আছি। এ ছাড়া স্যারের কোনো ক্ষতিসাধন কিংবা অনিষ্ট চিন্তায় আমাদের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি।

বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিষয় দফায় দফায় ইন্টারনাল আলোচনা চলছিল যাতে বিষয়টা মীমাংসা করা যায়। কিন্তু বিভাগের অন্যান্য শিক্ষকরা আপ্রাণ চেষ্টার পরও সমাধানে আসতে পারেনি। সর্বশেষ শিক্ষার্থীরা তাদের দাবির প্রতি অনড় রয়েছে। ফলে আগামী ৩ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য একাডেমিক মিটিং-এ অভিযুক্ত শিক্ষকের কোর্সটি অন্য শিক্ষককে দিয়ে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় আনার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে অন্যান্য গুরুতর অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখবেন বলে জানান বিভাগ।

বিভাগটির শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক তন্ময় সাহা জয় শিক্ষার্থীদের ওপর আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা, ফলাফল ‘ভ্যানিশ’ করে দেওয়ার হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন, এবং ইন্টার্নাল মার্ক প্রদানে দ্বিচারিতা করে আসছেন। এছাড়া ক্লাসে অন্য শিক্ষকদের সমালোচনা, শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত বিষয়ে অযাচিত হস্তক্ষেপ এবং আক্রমণাত্মক ভাষায় কথা বলার অভিযোগও রয়েছে জয়ের বিরুদ্ধে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিভাগটির একাধিক শিক্ষার্থী জানান, শিক্ষক জয় ফলাফল নিয়ে কিভাবে বের হব এবং দেখে নেওয়া হবে—এ ধরনের হুমকি দিতেন। সর্বশেষ নির্বাচনের পর স্যারের একটি ক্লাস ছিল। অনেক শিক্ষার্থীর বাসা দূরে হওয়ায় ক্লাস বাতিলের জন্য অনুরোধ করা হলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি। বরং ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্তে অনঢ় থাকেন। অথচ অন্যান্য শিক্ষকরা বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে উপস্থিত না হলে তিনি ক্লাস বর্জনের নোটিশ দেন এবং সকলের অ্যাটেনডেন্স বাতিল করার হুমকি দেন। তিনি যখন আমাদের ক্লাস বর্জন করেন, তখন আমরাও তার ক্লাস বর্জন করে স্মারকলিপি জমা দিই। এরপর জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে চেয়ারম্যান স্যারের কাছে সার্বিক বিষয়ে আমরা অভিযোগ জানাই।

অভিযোগের বিষয়ে সহকারী অধ্যাপক তন্ময় সাহা জয় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলে অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য করেননি তিনি। অভিযোগের বিষয়টা বিভাগের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন।

এ বিষয়ে বিভাগটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. রশিদুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। ইতোমধ্য সংশ্লিষ্ট কোর্সটি অন্য শিক্ষককে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের করা অভিযোগের প্রেক্ষিতে ৩ মার্চ অ্যাকাডেমিক মিটিং অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে সার্বিক বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তথ্যসূত্র: ক্যাম্পাস টাইমস

আপনার পছন্দ হতে পারে