জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) বটতলা এলাকায় হালিমে মাছি পাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এক দোকানের কর্মচারীর দিকে বাটি ছুড়ে মারার অভিযোগ উঠেছে জাকসুর নিরাপদ খাদ্য ও স্বাস্থ্য সম্পাদক হোসনে মোবারকের বিরুদ্ধে। গত মঙ্গলবার রাতে বটতলার ‘হাবিবের খাবারের দোকানে’ এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও দোকান কর্মচারীদের সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে ওই দোকানে ডিম পরোটা ও হালিম খেতে যান হোসনে মোবারক। খাবার পরিবেশনের পর হালিমের বাটিতে মাছি পাওয়ার দাবি করেন তিনি। এ নিয়ে তর্কের একপর্যায়ে তিনি দোকানের কর্মচারীদের ওপর চড়াও হন।
দোকানের কর্মচারী মোহাম্মদ শাহাবুদ্দীন অভিযোগ করে বলেন, “তিনি আমাদের ‘তুই’ সম্বোধন করে সবাইকে এক জায়গায় ডাকেন। এরপর বিল্লাল নামের এক কর্মচারীকে জোর করে মাছিযুক্ত খাবার খাওয়ানোর চেষ্টা করেন। বিল্লাল সরে গেলে তিনি আমার শরীর লক্ষ্য করে হালিমের বাটিটি ছুড়ে মারেন।”
ঘটনার বিষয়ে ভুক্তভোগী মোহাম্মদ বিল্লালসহ অন্য কর্মচারীরা জানান, খাবারে কোনো সমস্যা থাকলে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিতে পারতেন কিংবা আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারতেন। কিন্তু গায়ে খাবার ছুড়ে মারা এবং হেনস্তা করা একজন ছাত্রপ্রতিনিধির কাছ থেকে প্রত্যাশিত নয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জাকসুর স্বাস্থ্য সম্পাদক হোসনে মোবারক বলেন, “আমি একজন সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে খাবারের এই নোংরা পরিবেশের প্রতিবাদ করেছি। হালিমে দুর্গন্ধযুক্ত মাছি দেখে ক্ষোভে বাটিটি ছুড়ে মেরেছি। তবে কাউকে শারীরিকভাবে আঘাত করার উদ্দেশ্য আমার ছিল না।”
তিনি আরও বলেন, “খাবারের মান নিশ্চিত করা শুধু জাকসুর একার পক্ষে সম্ভব নয়। সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে কোথাও অনিয়ম দেখলে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তোলা উচিত বলে আমি মনে করি।”
বটতলার খাবারের মান নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ থাকলেও, তুচ্ছ ঘটনায় কর্মচারীদের গায়ে হাত তোলা বা খাবার ছুড়ে মারার এই আচরণ নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।