বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) এক শিক্ষার্থী দ্বিতীয় বর্ষে পাঁচ বিষয়ে অকৃতকার্য হয়ে পরীক্ষার উত্তরপত্রের সঠিক মূল্যায়ন চেয়ে আমরণ অনশন শুরু করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাউন্ডফ্লোরে ওই শিক্ষার্থী অনশনে বসেন।
অনশনকারী ওই শিক্ষার্থীর নাম শাকিব মিয়া। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শাকিব মিয়া প্রথম বর্ষেও দুটি বিষয়ে অকৃতকার্য হন। পরে সেগুলো রিটেক দিলে আবারও ফেল করেন। এদিকে দ্বিতীয় বর্ষে ১৩টি বিষয়ের মধ্যে ৫ টি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন। সেসব বিষয়ে খাতার সঠিক মূল্যায়নের দাবিতে তিনি অনশনে বসেছেন।
অনশনরত শাকিব মিয়ার দাবি, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবিতে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ায় তাকে পরিকল্পিতভাবে নম্বর কম দিয়ে ফেল করানো হয়েছে। তবে বিভাগীয় চেয়ারম্যান এ অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, পরীক্ষার খাতায় যথাযথ লেখা না থাকায় তিনি অকৃতকার্য হয়েছেন।
অবকাঠামো উন্নয়ন আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী আবু বকর সিদ্দিক জানান, আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার সঙ্গে শাকিব মিয়ার কোনো সম্পর্ক নেই। তারা তাকে ভালোভাবে চিনেন না বলেও উল্লেখ করেন।
অনশনরত শাকিব মিয়া অভিযোগ করে বলেন, গত বছর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবিতে চলা আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার জেরে তাকে পরিকল্পিতভাবে ৫টি বিষয়ে অকৃতকার্য করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি বিষয়ে তাকে ৩৯ ও ৩৮ নম্বর দিয়ে অকৃতকার্য দেখানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আন্দোলনের সময় থেকেই ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান ড. ধীমান কুমার রায় তাকে বিভিন্নভাবে ফেল করানোর হুমকি দিয়ে আসছিলেন। পরবর্তীতে ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, তাকে ৫টি বিষয়ে অকৃতকার্য দেখানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তিনি একাধিকবার বিভাগ ও উপাচার্যের কাছে গেলেও কোনো সমাধান পাননি। তার দাবি, তার পরীক্ষার খাতার সঠিক মূল্যায়ন করে তাকে তৃতীয় বর্ষে উত্তীর্ণ করার ব্যবস্থা করা হোক।
এ বিষয়ে ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. ধীমান কুমার রায় অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, শিক্ষার্থী যে অভিযোগ করেছেন তা সঠিক নয়। তার খাতার সঠিক মূল্যায়ন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এবং বাহিরে দু’দফায় খাতাগুলো মূল্যায়ন করা হয়েছে। এটাই নিয়ম। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষার তিনটি অংশ—লিখিত (তত্ত্বীয়), ব্যবহারিক ও মৌখিক—প্রত্যেক অংশে আলাদাভাবে পাস করতে হয়।
তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী ২ য় বর্ষের ১৩টি বিষয়ের মধ্যে ৫টি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন, যেগুলো সবই তত্ত্বীয় অংশে। খাতায় প্রয়োজনীয় উত্তর না থাকলে শিক্ষকদের পক্ষে নম্বর দেওয়া সম্ভব নয়। তবে একই বিষয়গুলোর ভাইভা ও ল্যাব পরীক্ষায় তিনি উত্তীর্ণ হয়েছেন যেখানে শিক্ষকদের মুল্যায়নের সুযোগ থাকে। এর আগেও প্রথম বর্ষে দুটি বিষয়ে তিনি অকৃতকার্য হন এবং পরবর্তীতে পুনরায় পরীক্ষা দিয়েও সেসব বিষয়ে উত্তীর্ণ হতে পারেননি।
ড. ধীমান কুমার রায় জানান,এই শিক্ষার্থী বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার বিভাগের কাছে এসেছেন এবং উপাচার্যের কাছেও গিয়েছেন। তবে নিয়মের বাইরে গিয়ে কিছু করার সুযোগ নেই। শিক্ষার্থীর কোনো আপত্তি থাকলে নিয়মতান্ত্রিকভাবে খাতা পুনর্মূল্যায়নের জন্য আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত পড়াশোনা করে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্যও তাকে উৎসাহিত করা হয়েছে। তবে তিনি ভিন্ন পথ অবলম্বনের চেষ্টা করছেন, যা নিয়মতান্ত্রিক ভাবে সম্ভব নয়।