পবিত্র রমজান মাসেই আমাদের দেশে খেজুর খাওয়া হয় বেশি। কিন্তু আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞান বলছে, সুস্থ থাকতে ও দীর্ঘমেয়াদি রোগব্যাধি দূরে রাখতে সারা বছরই নিয়ম করে খেজুর খাওয়া যায়। কোন বয়সে দৈনিক কতটুকু খেজুর খাবেন জানাচ্ছেন ডা. আফলাতুন আকতার জাহান
১.শিশু (এক থেকে পাঁচ বছর): প্রতিদিন এক থেকে দুটি খেজুর খেতে পারে। শিশুদের খেজুর খাওয়াতে চাইলে বীজ ফেলে ছোট টুকরা করে বা চটকে দেওয়া নিরাপদ।
২. কিশোর ও তরুণ: প্রতিদিন পাঁচ থেকে সাতটি খেতে পারেন। পড়াশোনা ও খেলাধুলার জন্য প্রয়োজনীয় বাড়তি শক্তি জোগাতে এটি দারুণ কাজ করে।
সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক: প্রতিদিন তিন থেকে পাঁচটি বা প্রায় ৪০ গ্রাম খেজুর খেতে পারেন।
৩. বয়স্ক ব্যক্তি: প্রতিদিন দুই থেকে তিনটি। এই অভ্যাস হাড়ের ঘনত্ব বজায় রাখতে ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে।
কখন ও কীভাবে খেজুর খাবেন
সকালে খালি পেটে: রমজান মাসে ইফতারে তো খাওয়াই হয়। এ ছাড়া বছরের অন্যান্য সময় সারা দিন কর্মক্ষম থাকতে ও শরীর ডিটক্স করতে সকালে দুই থেকে তিনটি খেজুর খাওয়া সবচেয়ে ভালো।
পানিতে ভিজিয়ে: সাধারণ সময়ে রাতে তিন থেকে পাঁচটি খেজুর এক গ্লাস পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে সেই পানি ও খেজুর খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দ্রুত সেরে যায়। তবে রমজান মাসে রাতের বদলে দিনে ভিজিয়ে রেখে সন্ধ্যার পর খেতে পারেন।
দুধের সঙ্গে: রাতে ঘুমানোর আগে দুধের সঙ্গে খেজুর খেলে পেশি গঠন ও গভীর ঘুমে সহায়তা করে।
ব্যায়ামের আগে: জিম বা ভারী কাজের ৩০ মিনিট আগে খেজুর খেলে দীর্ঘক্ষণ শক্তি পাওয়া যায়।
বিশেষ ক্ষেত্রে সতর্কতা
ডায়াবেটিক রোগী: খেজুরের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স বেশি হওয়ায় এটি রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। ডায়াবেটিসের রোগীরা প্রতিদিন এক থেকে দুটির বেশি খেজুর খাবেন না এবং তা অবশ্যই চিকিত্সকের পরামর্শ অনুযায়ী।
কিডনির রোগী: খেজুরে পটাশিয়াম বেশি থাকায় যাঁদের কিডনির জটিলতা আছে, তাঁদের চিকিত্সকের পরামর্শ ছাড়া খেজুর খাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত।
ডা. আফলাতুন আকতার জাহান, জুনিয়র কনসালট্যান্ট, ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগ, স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেড, ঢাকা