জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ড. রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধাকে লক্ষ্য করে সাম্প্রতিক অপপ্রচার, সাইবার বুলিং ও পরিকল্পিত মানহানির প্রতিবাদে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছে বিভাগের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (৬ এপ্রিল) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা এই গভীর উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানান। এর আগে শতাধিক শিক্ষার্থীর স্বাক্ষর সংবলিত একটি স্মারকলিপি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর জমা দেওয়া হয়।
বিবৃতিতে শিক্ষার্থীরা বলেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ড. স্নিগ্ধার বক্তব্যকে প্রসঙ্গ থেকে বিচ্ছিন্ন করে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। এটি কোনো গঠনমূলক সমালোচনা নয়, বরং একজন শিক্ষককে সামাজিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যমূলক প্রচেষ্টা।
নৃবৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এই ঘটনাকে ‘সিমবোলিক টার্গেটিং’ হিসেবে উল্লেখ করে শিক্ষার্থীরা জানান, এ ধরনের আক্রমণ কেবল একজন ব্যক্তিকে নয়, বরং পরোক্ষভাবে সকল নারী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য এক ধরণের ভয়ের পরিবেশ তৈরি করছে। এটি সমাজে বিদ্যমান জেন্ডার বায়াস ও কাঠামোগত সহিংসতারই প্রতিফলন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্ট-১৯৭৩ অনুযায়ী প্রশাসনিক ক্ষমতা নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের হাতে ন্যস্ত। জাকসু বা এর কোনো সদস্যের এ ধরনের ব্যক্তিগত আক্রমণ বা প্রশাসনের ওপর অনৈতিক চাপ সৃষ্টির কোনো এখতিয়ার নেই। শিক্ষার্থীরা একে ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রাতিষ্ঠানিক সীমা লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছেন।
শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত দাবিগুলোর মধ্যে অন্যতম – অবিলম্বে মিথ্যা ও বিকৃত তথ্য প্রত্যাহার করতে হবে, প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে, জাকসুকে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে, ভবিষ্যতে সাইবার বুলিং ও অপপ্রচার রোধে কার্যকর নীতিমালা নিশ্চিত করতে হবে।
শিক্ষার্থীরা মনে করেন, একাডেমিক পরিবেশে স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ ও বিশ্লেষণের সংস্কৃতি বজায় রাখতে এ ধরণের অপপ্রচার বন্ধ হওয়া জরুরি। অন্যথায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সুস্থ ও মুক্তবুদ্ধি চর্চার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।