বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘাত-সহিংসতা ছাড়াই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয়েছে বলে জানিয়েছে বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)।
আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানায় সংস্থাটি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতা ও নির্বাচন পর্যবেক্ষণ শেষে বিস্তারিত জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংস্থাটির হিসাবমতে, ভোটের দিন (১২ ফেব্রুয়ারি) দেশের কয়েকটি স্থানে হামলা-পাল্টা হামলা ও সংঘর্ষ হয়েছে। সারা দেশের অধিকাংশ জেলায় নির্বাচনের দিনে নির্বাচন ঘিরে বিশৃঙ্খলা, জাল ভোট, পোলিং এজেন্ট বের করে দেওয়া, প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের মতো অন্তত ৩৯৩টি অপরাধমূলক ঘটনা ঘটেছে।
এর মধ্যে বরিশাল ও রাজশাহীতে বেশি এবং কম বিশৃঙ্খলা হয়েছে ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগে। তবে দেশের কোথাও নির্বাচন ঘিরে সংঘর্ষে ভোটের দিন কেউ নিহত হননি।
এছাড়া নির্বাচন–পরবর্তী দুই দিনে দেশের ৩০টি জেলায় দুই শতাধিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এতে তিনজন নিহত হওয়ার পাশাপাশি আহত হয়েছেন তিন শতাধিক।
এইচআরএসএস জানিয়েছে, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাস থেকে গতকাল (১৪ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত নির্বাচনকেন্দ্রীক সাত শতাধিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২ হাজার ৫০৩ জন এবং নিহত হয়েছেন ১০ জন।
১৫টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা, দেড় শতাধিক স্থানীয় পত্রিকা এবং জেলা প্রতিনিধিদের থেকে প্রাপ্ত তথ্য এবং তথ্যানুসন্ধানের ভিত্তিতে এসব কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।
সংস্থাটির হিসাব বলছে, তফসিল ঘোষণার পর থেকে ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচনকেন্দ্রীক অন্তত ২৫৪টি সহিংসতার ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৬৫০ জন এবং নিহত হয়েছেন ৫ জন।
এছাড়াও এই সময়ে নির্বাচনী সহিংসতায় কমপক্ষে ২৪ জনের অধিক গুলিবিদ্ধ এবং দুই শতাধিক বাড়ি-ঘর, যানবাহন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ও নির্বাচনী কার্যালয়, ভোটকেন্দ্র ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
এইচআরএসএস জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সম্পন্ন হলেও নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর দেশের বিভিন্ন জেলায় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। সহিংসতার পৃথক ৩টি ঘটনায় মুন্সীগঞ্জ ও বাগেরহাটের দুই যুবক এবং ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে এক শিশু নিহত হয়েছেন।
নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বিএনপি, জামায়াত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে অন্তত ৩০টি জেলায় দুই শতাধিক পৃথক সংঘর্ষে তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন এবং অন্তত ৩৫০টি অফিস, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ঘরবাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।