সংঘাতপূর্ণ বিশ্বে শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে ভারত: ভারতীয় প্রেসিডেন্ট

by অনলাইন ডেস্ক
Site Favicon প্রকাশিত: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:৪৭
A+A-
Reset

সংঘাত ও অস্থিরতায় ভরা বর্তমান বিশ্বে শান্তির বার্তাবাহক হিসেবে ভারতের ভূমিকার কথা তুলে ধরেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট দ্রৌপদী মুর্মু। ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে তিনি বলেছেন, সংঘাতপূর্ণ বিশ্বে শান্তির বার্তাবাহক হচ্ছে ভারত। তার মতে, সংঘাত ও অস্থিরতায় জর্জরিত বর্তমান বিশ্বে ভারত শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে। মানবজাতির ভবিষ্যৎ নিরাপদ রাখতে হলে বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু বলছে, রোববার (২৫ জানুয়ারি) ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে ভারতীয় এই প্রেসিডেন্ট জাতীয় নিরাপত্তা, নারীর ক্ষমতায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সাস্কৃতিক আত্মবিশ্বাস ও গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাসহ নানা বিষয়ে কথা বলেন। একইসঙ্গে তিনি ভারতের সভ্যতাগত ঐতিহ্যের আলোকে বিশ্বে ভারতের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন।

দ্রৌপদী মুর্মু বলেন, শান্তির প্রতি ভারতের অঙ্গীকার দেশটির আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে গভীরভাবে প্রোথিত। তিনি বলেন, ‘আমাদের ঐতিহ্যে সারা বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রার্থনা করার রীতি রয়েছে। গোটা বিশ্বে শান্তি থাকলেই কেবল মানবজাতির ভবিষ্যৎ নিরাপদ থাকতে পারে’। তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বের নানা প্রান্তে যখন সংঘাত চলছে, তখন ভারত শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে।’

জাতীয় নিরাপত্তার প্রসঙ্গে তিনি ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর ‘সাফল্যের’ কথা তুলে ধরেন। এটিকে ভারতের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি ও আত্মনির্ভরতার বড় প্রমাণ হিসেবে দাবি করেন তিনি। ভারতীয় এই প্রেসিডেন্ট বলেন, গত বছর সন্ত্রাসী অবকাঠামোর বিরুদ্ধে নির্ভুল হামলা চালানো হয় এই অভিযানে। এতে সন্ত্রাসীদের ঘাঁটি ধ্বংস হয় এবং বহু সন্ত্রাসী নিহত হয়। প্রতিরক্ষা খাতে আত্মনির্ভরতা এই অভিযানের ঐতিহাসিক সাফল্য নিশ্চিত করেছে বলেও তিনি দাবি করেন।

সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে মুর্মু বলেন, তিনি সিয়াচেন বেস ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন, সুখোই ও রাফাল যুদ্ধবিমানে উড্ডয়ন করেছেন এবং সাবমেরিন আইএনএস ভাগশীরেও যাত্রা করেছেন। তার ভাষায়, সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীর শক্তির ওপর দেশের মানুষের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। এই সামরিক শক্তির কারণেই ভারত বিশ্বাসযোগ্যভাবে শান্তির পক্ষে কথা বলতে পারে।

একইসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের ক্রমবর্ধমান শক্তি ও অর্থনৈতিক আত্মবিশ্বাসের ওপর ভর করে শান্তির পক্ষে ভারত দাঁড়িয়ে আছে। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও ভারত বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল বড় অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে এবং অচিরেই বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হওয়ার পথে রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এই অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারতের অবস্থানকে আরও দৃঢ় করছে।

ভাষণের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়টি। ভারতীয় এই রাষ্ট্রপতি দাবি করেন, ২০৪৭ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার পথে নারীর ক্ষমতায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ‘নারী শক্তি’র উত্থান দেশের নানা ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, গ্রামীণ স্বনির্ভর গোষ্ঠী থেকে শুরু করে মহাকাশ, প্রতিরক্ষা, ক্রীড়া ও উদ্যোক্তা খাতে নারীরা প্রচলিত ধ্যানধারণা ভেঙে এগিয়ে চলেছেন। বর্তমানে ১০ কোটির বেশি নারী স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত এবং পঞ্চায়েত রাজ প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৪৬ শতাংশ প্রতিনিধি নারী।

আপনার পছন্দ হতে পারে