ময়মনসিংহ–৭ (ত্রিশাল) আসনে নির্বাচনী সমীকরণে বড় ধরনের চমক ও নাটকীয়তা তৈরি হয়েছে। হলফনামায় তথ্য গোপন ও বিভিন্ন অসঙ্গতির কারণে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ার সাদাতসহ একইদিনে মোট ৬ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা। এতে ত্রিশালের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও কৌতুহল সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার বিকালে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. সাইফুর রহমান জানান, হলফনামায় মামলার সংখ্যা কম দেখানোয় বিএনপি প্রার্থী ডা. মাহবুবুর রহমানের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের কাছে প্রার্থীদের হলফনামার পাশাপাশি পুলিশের একটি প্রতিবেদন থাকে। যাছাই-বাছাইয়ের সময় জেলা পুলিশের প্রতিনিধিও উপস্থিত ছিলেন। হলফনামার তথ্যের সঙ্গে পুলিশ প্রতিবেদনের অমিল থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সংক্ষুব্ধ প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনে আপিল করার সুযোগ পাবেন।’
মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন। বিষয়টিকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের পরিপত্র ৭-এ স্পষ্ট উল্লেখ আছে, অনেক আগে নিষ্পত্তি হওয়া মামলার তথ্য দিতে না পারলে মনোনয়নপত্র বাতিল করা যাবে না। অত্যন্ত ঠুনকো ও অযৌক্তিক কারণে আমার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এই ধরনের সিদ্ধান্ত নির্বাচনী কার্যক্রমকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।’
এদিকে, ত্রিশাল (ময়মনসিংহ-৭) আসনে মোট ৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন, যার মধ্যে ডা. লিটনসহ আরও ৫ জনের প্রার্থিতা বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন- মোহাম্মদ আনোয়ার সাদাত (স্বতন্ত্র), মো. জয়নাল আবেদীন (স্বতন্ত্র), আবুল মুনসুর (স্বতন্ত্র), মো. নজরুল ইসলাম (খেলাফত মজলিস) ও আব্দুল কুদ্দুস (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস)।
শনিবার ত্রিশাল ছাড়াও ময়মনসিংহের ৩টি আসনে মোট ৫ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। এর মধ্যে ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনে বিএসপির লিয়াকত আলী ও এনপিপির হামিদুল ইসল্লা, ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনে এবি পার্টির রফিকুল ইসলাম এবং ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) আসনে বিএনপির সাইফুল ইসলাম, তানভীর আহমেদ রানা (স্থগিত) ও ইসলামী আন্দোলনের নূরে আলম সিদ্দিকীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
এ নিয়ে গত দুই দিনে জেলায় সব মিলিয়ে মোট ১৬ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।