একদল শিক্ষার্থীর চাপে এবার জাবিতে বাউল গান বন্ধ করে দিলো প্রশাসন

Site Favicon প্রকাশিত: ০১ ডিসেম্বর ২০২৫ ০৫:৩৯ আপডেট: ০১ ডিসেম্বর ২০২৫ ০৫:৪৭
A+A-
Reset

সারাদেশে বাউলের ওপর হামলার প্রতিবাদে ‘বাউলের দ্রোহ’ শিরোনামে বিচার গানের আসরের আয়োজন করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তবে এই গান গভীর রাত পর্যন্ত চলায় ভিসির বাসভবনের সামনে প্রতিবাদস্বরূপ গান বাজাতে থাকেন একদল শিক্ষার্থী। ফলে তড়িঘড়ি করে বাউল গান বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রশাসনের বিরুদ্ধে।

গতকাল রবিবার দিবাগত রাত পৌনে দুইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্ত্বরে এ ঘটনা ঘটে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার বিকেলে সাড়ে পাঁচটার দিকে বাউলের দ্রোহ নামে গানের পরিবেশনা শুরু করেন একদল শিক্ষার্থী। পরে রাত নয়টার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপে কয়েকজন শিক্ষার্থী গানের উচ্চশব্দে তাদের পড়াশোনা করতে সমস্যা হচ্ছে এমন পোস্ট করতে থাকেন। রাত ১ টার দিকে পরিবহন চত্ত্বরে গান বন্ধ না হওয়ায় প্রতিবাদস্বরূপ শিক্ষার্থীদের একটি দল উপাচার্যের বাসভবনের সামনে গিয়ে ছোট কয়েকটি হ্যান্ড সাউন্ডবক্স নিয়ে গান চালাতে থাকেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর পরিবহন চত্ত্বরে চলা বাউলের দ্রোহ গানের মঞ্চে যান এবং আয়োজকদের গান বন্ধ করার জন্য নির্দেশ দেন। এ সময় প্রক্টরের সাথে আয়োজকদের কথা-কাটাকাটি হয়।

আয়োজকদের কয়েকজন জানান, তারা শব্দ কমিয়ে অনুষ্ঠান চালাচ্ছিলেন। শুরু থেকেই তারা শব্দের বিষয়ে সচেতন ছিলেন। কিন্তু একটি গোষ্ঠীর চাপে প্রশাসন গানের আসর বন্ধ করে দিয়েছে। অনেকে ছাত্রশিবিরের দিকেও ইঙ্গিত দিয়েছেন।

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর একেএম রাশিদুল আলম বলেন, সন্ধ্যার পর থেকেই অনেক শিক্ষার্থী উচ্চশব্দের বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেছে। কারণ তাদের পরীক্ষা চলছে যেহেতু এখন পরীক্ষার মৌসুম। এছাড়া অনেক শিক্ষার্থী গানের উচ্চশব্দে মাইগ্রেনের সমস্যার কথাও জানিয়েছে। তার প্রেক্ষিতে গানের আয়োজকদের গানের শব্দ কমাতে বলেছিলাম। পরে রাত পৌনে দুইটার দিকে তাদের অনুষ্ঠান শেষ করার জন্য অনুরোধ করলে তারা ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় চান এবং সে সময়ের পর আমার অনুরোধের প্রেক্ষিতে তারা অনুষ্ঠান শেষ করেছে। তবে তাদের মধ্যে কেউ কেউ অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছে এবং স্ল্যাং শব্দ ব্যবহার করেছে। এছাড়া পরিবহন চত্ত্বরে উচ্চ শব্দের গানের প্রতিবাদস্বরূপ একদল শিক্ষার্থী মাননীয় ভিসি স্যারের বাসার সামনে অবস্থান নিয়েছেন এবং তারাও কিছুটা উচ্চস্বরে কিছু অ্যাক্টিভিটিস করেছেন। সেগুলোও তাদের কাছে আমরা আশা করিনা।

আপনার পছন্দ হতে পারে