আগেরটায় যখন ১০ পেয়েছো পরেরটাও তাই পাবা: টিউটোরিয়াল নাম্বারের বিষয়ে জাবি শিক্ষক

Site Favicon প্রকাশিত: ১৬ নভেম্বর ২০২৫ ১৬:১০
A+A-
Reset

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক (আইআর) বিভাগের শিক্ষক ফজলুল হালিম রানার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের প্রতি অন্যায্য আচরণ, রাজনৈতিক ট্যাগ দিয়ে অপমান, খাতা অবমূল্যায়ন এবং মানসিক হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সজিবুর রহমান।

আজ সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসানের কাছে একটি লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন তিনি। এ সময় তার সঙ্গে কয়েকজন সহপাঠী উপস্থিত ছিলেন।

অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, অভিযুক্ত শিক্ষক প্রায়ই টিউটোরিয়াল বা অ্যাসাইনমেন্ট খাতা না দেখে ইচ্ছামতো কম নম্বর দেন। এমনকি এক শিক্ষার্থী প্রথম টিউটোরিয়ালে কম নম্বর পাওয়ার কারণ দেখিয়ে পরবর্তী টিউটোরিয়াল খাতাও না দেখে একই নম্বর দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে, একই ধরনের উত্তরে কেউ পূর্ণ নম্বর পেলেও কেউ কম নম্বর পেয়েছেন যা শিক্ষক মূল্যায়নে পক্ষপাতের ইঙ্গিত দেয়।

কয়েকজনের প্রত্যক্ষ অভিযোগ ওই অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে-‘একটা সামান্য ভুলের জন্য তিনি টিউটোরিয়ালে ২০ এর মধ্যে ১০ দিয়েছেন। তবে এমন ক্ষুদ্র ত্রুটি অন্যের খাতায় থাকলেও সেটা তিনি ভুল হিসেবে চিহ্নিত করেননি। এটা কিছুটা মানা যায়। কিন্তু প্রথম টিউটোরিয়ালে সেই শিক্ষার্থী ১০ পেয়েছে এজন্য তিনি পরের টিউটোরিয়ালের খাতা কোনোরকম মূল্যায়ন ছাড়াই ২০ এর মধ্যে ১০ দিয়েছেন। এই বিষয়ে সেই শিক্ষার্থী তাকে জিজ্ঞেসা করে যে স্যার এই খাতায় তো কোন ভুল নেই, এটা একটু দেখেন এবং কোথায় ভুল করেছি সেটা একটু দেখিয়ে দেন।

যুক্তি হিসাবে তিনি বলেন যে, “কি লিখছো বোঝা যায় আগেরটাই যখন ১০ পেয়েছো পরেরটাও তাই পাবা। ” আগের টিউটোরিয়ালের মার্কসের উপর ভিত্তি করে তিনি পরের টিউটোরিয়ালের মার্কস দিয়েছেন। কি জঘন্য মূল্যায়ন পদ্ধতি।’

এছাড়া অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত বেশ কয়েকটি ব্যক্তিগত সাক্ষ্য (সংযুক্তি) তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে-
সংযুক্তি-১: ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী হযরত আলী জানান, ভর্তি কার্যক্রমের সময় শিক্ষক তার মাদ্রাসা ব্যাকগ্রাউন্ড দেখে ‘জঙ্গি’ উল্লেখ করে অপমান করেন এবং তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেন।

সংযুক্তি-২: তাকিউদ্দীন নামের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, শিক্ষক তাকে আইএস সংশ্লিষ্ট বলে সন্দেহ করেন এবং বিভাগে ‘টিকতে দেওয়া হবে না’ বলে হুমকি দেন।

সংযুক্তি-৩: জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ করেন, দাড়ি রাখায় তাকে ‘শিবির’ আখ্যা দেওয়া হয় এবং দুই টিউটোরিয়ালে একই নম্বর দেওয়া হয়, যদিও তিনি প্রশ্ন অনুযায়ী উত্তর লিখেছিলেন।

সংযুক্তি-৪: তুরান (৫০ ব্যাচ) অভিযোগ করেন, শিক্ষক তার ভর্তি যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং পারিবারিক পরিচয় নিয়েও কটূক্তি করেন।

সংযুক্তি-৫: ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মারুফ আল ফাহিম বলেন, ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে শিক্ষক তার ফলাফল ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন এবং মানসিক চাপে ফেলেছেন; এমনকি তাকে বহিষ্কারের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল।

সংযুক্তি-৬: আন নাজমুস সাকিব অভিযোগ করেন, টিউটোরিয়াল খাতা পড়া ছাড়াই কম নম্বর দেওয়া হয় এবং মাদ্রাসা ব্যাকগ্রাউন্ড হওয়ায় বৈষম্যের শিকার হন।

সংযুক্তি-৭: সিআর সালমান শাহ জানান, শিক্ষক নির্দেশ দিয়েছিলেন যে কোনো শিক্ষার্থী তার রুমে যেতে পারবে না এবং তাকে ফোন করাও যাবে না। এমনকি নিয়মিত ক্লাস না নেওয়ার পর বিষয়টি জানাতে গেলে ক্লাসে তাকে অপমান করা হয়।

এসময় অভিযোগকারী শিক্ষার্থী সজিবুর রহমানের সাথে অভিযোগ জানাতে আসেন ঐ বিভাগের আরও বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী। অভিযোগপত্রে শিক্ষার্থীরা চার দফা দাবি উত্থাপন করেছেন। দাবিগুলো হলো– সহযোগী অধ্যাপক ফজলুল হালিম রানা যেন চতুর্থ বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন না করেন; টিউটোরিয়ালসহ সব খাতা স্বাধীনভাবে পুনর্মূল্যায়নের ব্যবস্থা করা ; নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে অভিযোগ সত্য প্রমাণ হলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ; শিক্ষার্থীদের ওপর ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক হেনস্থা প্রতিরোধে স্থায়ী নীতিমালা গ্রহণ এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের বিষয়ে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

এ বিষয়ে আন্তজার্তিক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ফজলুল হালিম রানা গণমাধ্যমকে বলেন, আমার শিক্ষককতা জীবনের ১৮ বছরে কোনো শিক্ষার্থীর পোষাক পরিচ্ছদ নিয়ে এ ধরনের কথা বলিনি। আমি সব শিক্ষার্থীকে স্বকীয়তা বজায় রাখার জন্য এনকারেজ করি। এগুলো সব ভিত্তিহীন অভিযোগ। চতুর্থ বর্ষে একটা কোর্সের ক্লাস নিই। ওই কোর্সের এখনো ফাইনাল নাম্বার আমি দেইনি। তাহলে এধরনের অভিযোগের তো কোনো ভিত্তি থাকে না।

আপনার পছন্দ হতে পারে