ফুলকুঁডি আসরের ৫১ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের তারার মেলা শাখার উদ্যোগে পুরষ্কার বিতরণী ও শিশু সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের গগণ হরকরায় দিনটি পালিত হয়।
এই দিন সকালে তারার মেলা শাখার শিশু ক্বারিদের কন্ঠে পবিত্র কুরআন ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরবর্তীতে ফুলকুঁড়ি আসরের লক্ষ্য উদ্দেশ্য নিয়ে ডকুমেন্টরি প্রদর্শন, বিশেষ অতিথি, মূখ্য আলোচক ও প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে পুরস্কার বিতরণের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠান সম্পূর্ণ হয়।
উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম, মূখ্য আলোচক হিসেবে কেন্দ্রীয় ফুলকুঁড়ি আসরের অফিস সম্পাদক মাহফুজুর রহমান, বিশেষ অতিথি হিসেবে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের , বায়োটেকনোলজি বিভাগে অধ্যাপক ড.মিন্নাতুল করিম, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক খ.আরিফা আক্তার, ফুলকুঁড়ি আসর তারার মেলা শাখার পরিচালক খন্দকার আহনাফউজ্জামান, সহকারী পরিচালক মুবাশ্বির আলমসহ শিশু -কিশোর ও তাদের অবিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।
মূখ্য আলোচক কেন্দ্রীয় ফুলকুঁড়ি আসরের অফিস সম্পাদক মাহফুজুর রহমান বলেন, “শিশুরা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। আমাদের সন্তানদের হাতে আমাদের ভবিষ্যতের স্বপ্ন নির্ভর করছে। সেই সুন্দর স্বপ্নকে পূরণ করার জন্য একটা সুন্দর পরিবেশ দরকার।এই সুন্দর পরিবেশটা আজকে বাংলাদেশে খুবই অভাব আছে। আমাদের সন্তানরা যাদের সাথে মিশছে, যাদের সাথে চলাফেরা করছে, যাদের সাথে খেলাধুলা করছে, তারাই মূলত আমাদের সন্তানদেরকে নষ্ট করে দিচ্ছে।
সেই জায়গা থেকে আজকে যারা অভিভাবক আছেন, আপনাদেরকে খেয়াল করতে হবে:
কার সাথে মিশলে আপনার সন্তান ভালো সন্তান রূপে প্রতিপালিত হবে? কার সাথে মিশলে তার প্রতিভাকে বিকশিত করার সুযোগ পাওয়া যায়? কার সাথে চলাফেরা করলে তাদের পড়ালেখার উন্নতি ঘটবে? কার সাথে চলাফেরা করলে ছেলেটি আমার অন্ধকারে দিকে চলে যাবে না, তার খেয়াল রাখতে হবে।”
পরবর্তীতে তিনি শিশুদের দিকনির্দেশনা ও অনুপ্রেরণা মূলক গল্পের মাধ্যমে তার বক্তব্য শেষ করে।
ফুলকুঁড়ি আসর তারার মেলা শাখার পরিচালক খন্দকার আহনাফউজ্জামান বলেন, ১৯৭৪ সালের ২৫শে সেপ্টেম্বর ফুলকুঁড়ি আসরের যাত্রা শুরু হয়। ফুলকুঁড়ি আসর তারার মেলা শাখা মূলত আটটি স্কুলের শিশু কিশোরদের নিয়ে কাজ করে। শিশুদের সৃজনশীল প্রতিভার বিকাশের জন্য আমরা মাইল ম্যারাথন কুইজ প্রতিযোগিতা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং ফুটবল টুর্নামেন্টসহ আমাদের নানা আয়োজন করে থাকে।
তিনি ফুলকুঁড়ি আসরের কার্যক্রম উল্লেখ করে বলেন, ফুলকুঁড়ি আসর একতা, শিক্ষা, চরিত্র, স্বাস্থ্য ও সেবা এ পাঁচটি বিষয় নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করি। এই পাঁচটি আদর্শকে সামনে রেখে আমাদের কার্যক্রম চলে। ফুলকুঁড়ি আসর শিশু বিকাশ কার্যক্রমের যতগুলো ধাপ আছে, সব ধাপেই তারা কাজ করে যায়।
ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম বলেন,আজকের শিশুরাই আগামী দিনের কর্ণধার, আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। এখানে তোমরা যারা বসে আছো, আজকে সবাই শিশু হিসেবে থাকলেও একদিন তোমরা এই দেশের নেতৃত্ব দেবে, এদেশের মূল দায়িত্বশীল এর ভূমিকা পালন করবে।
ফুলকুঁড়ি একটি ব্যতিক্রমধর্মী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। আপনাদের বাচ্চাদেরকে আপনারা যারা ফুলকুঁড়ির সাথে সম্পৃক্ত রাখতে পেরেছেন, আমি মনে করি আপনাদের এটা একটি সৌভাগ্যের ব্যাপার যে আপনারা যত্নের মাধ্যমে আপনাদের ছেলে-সন্তানদেরকে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, “এদেশের যতগুলো শিশু সংগঠন আছে, যারা শিশু-কিশোরদের নিয়ে কাজ করে, তার মধ্যে ফুলকুঁড়ি একটি পজিটিভ এবং একটি শিক্ষার্থীবান্ধব সংগঠন। শিশুবান্ধব ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করার লক্ষ্যে তারা ছাত্রদেরকে সবসময় গাইড করে থাকে, ছাত্রদের কর্মসূচিগুলো দিয়ে থাকে, এবং ছাত্রদেরকে আদর-সোহাগ, শাসন মাধ্যমে একটি শিশু কিভাবে একজন আদর্শ ছাত্র হতে পারে, একটি শিশু কিভাবে একজন আদর্শ সন্তান হতে পারে, একটি শিশু কিভাবে সমাজের একজন আদর্শ সদস্য হতে পারে, আবার এর পাশাপাশি নৈতিকভাবে কিভাবে সে নিজেকে বলীয়ান করতে পারে, কিভাবে সে দ্বীন এবং দুনিয়া, আখেরাত এবং দুনিয়া—উভয়ের মধ্যে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি জীবনযাপন করতে পারে, সততা, নিষ্ঠা, আন্তরিকতা, দক্ষতা, দেশপ্রেম—এই সকল বিষয়ের সমন্বয় ঘটিয়ে নিজের ক্যারিয়ারকে গড়ে তোলা, পাশাপাশি পরিবারের বন্ডিং, সমাজের দায়িত্ববোধ, রাষ্ট্রের প্রতি ভালোবাসা, রাষ্ট্রের প্রতি তাদের কর্তব্য—এগুলো সম্পর্কে ফুরফুরি তার সদস্যদেরকে সময় সময় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।