ছিনতাই ও মারধরসহ নানা ঘটনায় অভিযুক্ত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতা শাহ মোস্তাক আহমদ সৈকত বর্তমানে জামালপুর যুবদলের কর্মী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। গণ-অভ্যুত্থানের পরপরই ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত হয়ে সৈকত বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে পুরোপুরি মনোনিবেশ করেছেন।ফেসবুকে তার ব্যক্তিগত একাউন্ট বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
শাহ মোস্তাক আহমেদ সৈকত বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৫ তম ব্যাচের ছাত্র ছিলেন এবং জাবি শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক নেতা (মৃত) শামীম মোল্লার অনুসারী ছিলেন। পরে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান লিটনের সঙ্গে রাজনীতি করতেন বলে জানা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালে ১ এপ্রিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসে এক ব্যক্তিকে মারধর ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে ছাত্রলীগের পাঁচ কর্মীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করে প্রশাসন। ওই ঘটনায় যুক্ত থাকায় শাহ মোস্তাক আহমদ সৈকতও সাময়িক বহিস্কার হয়েছিলেন। এছাড়া ২০২৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিচু বটতলায় আল মদিনা হোটেলে ৫১ তম ব্যাচের এক ছাত্রীকে তিনি হেনস্তা করেন। পরে কয়েকজন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে সৈকত সাংবাদিকদের সঙ্গে অসদাচরণ করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গণ-অভ্যুত্থানের পর সৈকত নিজের জেলা জামালপুরে ফিরে যান। সেখানে তিনি মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ (জামালপুর-৩) আসনে যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।
সৈকতের ফেসবুক একাউন্ট বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, নিয়মিত তিনি বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচির ভিডিও এবং ছবি পোস্ট করেন। বেশিরভাগ পোস্ট বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমটির সহ-সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বাবলুকে ঘিরে পোস্ট করেছেন। তবে সৈকতের বর্তমানে যুবদলে কোনো পদ আছে কি না নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ) এক নেতা বলেন, সৈকত মূলত বৃষ্টি যেদিকে ছাতা সেদিকেই ধরে। ছাত্রলীগের রাজনীতি করে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা নিয়ে বর্তমানে বিএনপি থেকে সুযোগ সুবিধা নেওয়ার জন্য রাজনীতি শুরু করেছে। এসব নর্দামার কীট যেখানেই আশ্রয় দেওয়া হবে সেখানেই গব্ধ ছড়াবে।
সার্বিক বিষয়ে জানতে শাহ মোস্তাক আহমদ সৈকতের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি সম্ভব হয়নি।