হাবিপ্রবিতে স্থায়ী কেন্দ্রীয় মন্দিরের দাবি শিক্ষার্থীদের

Site Favicon প্রকাশিত: ০২ নভেম্বর ২০২৫ ১৪:৪৮
A+A-
Reset

উত্তরবঙ্গের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই স্থায়ী কেন্দ্রীয় মন্দির,অস্থায়ী মন্দিরেই পালিত হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠান।তবে এরই মধ্যে নিরাপত্তা, অবকাঠামগত উন্নতি এবং মন্দির স্থায়ীকরণ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে শঙ্কা ।সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা দ্রুতই এর সমাধান চান।

বর্তমানে প্রশাসনের অনুমতিতে দেওয়া এক অস্থায়ী জায়গায় সনাতনী শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে স্থাপিত হয় কেন্দ্রীয় মন্দির। হাবিপ্রবি কেন্দ্রীয় মন্দির ২০২৪ সালে স্থাপিত হলেও সেরকম (একটি মন্দিরের যেমন হওয়া উচিত) অবকাঠামোগত উন্নতি এখন পর্যন্ত দেখা যায়নি। তারপরেও হাবিপ্রবি সনাতনী শিক্ষার্থীরা এই কঠিন বাস্তবতা মেনে নিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশেই পালন করে যাচ্ছেন তাদের ধর্মীয় আচার আচরণ।তবে এরই মধ্যে রয়েছে শিক্ষার্থীদের নানা রকম অভিযোগ।

শিক্ষার্থীরা বলেন — প্রায় ১ বছর আগে হাবিপ্রবি কেন্দ্রীয় মন্দিরে বৈদ্যুতিক লাইন চুরি হয়েছে।২৪ ঘন্টায় আনসার নিরাপত্তায় থাকা স্বত্বেও চুরি হয়,এটা হাবিপ্রবিতেই সম্ভব।এক বছর ধরে এডভাইজার ও প্রক্টর স্যারের সাথে যোগাযোগ,এপ্লিকেশন দিয়েও কোন কাজ হচ্ছে না।

গত ৮ মাস ধরে মন্দির এলাকায় বাউন্ডারির বৈদ্যুতিক লাইন ব্যবহার হচ্ছে, যা শুধু সন্ধ্যা ৬টা থেকে জ্বলে—ফ্যান চালানোও সম্ভব নয়। সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে লাইন ছিঁড়ে গেছে, তবুও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনও উদ্যোগ নেয়নি। রাতের অন্ধকারে ধর্মচক্র ও নিত্য পূজার্চনা করতে হচ্ছে। দীপাবলির আগে লাইন দেয়ার আশ্বাস বারবার (প্রায় ৫০ বার) দেওয়া হলেও ব্যবস্থা হয়নি।

মন্দিরে ওয়াশরুম নেই। গত ১২ বছর ধরে পুরোহিত বিনা পারিশ্রমিকে পূজা পরিচালনা করছেন; বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাঁর জন্য কোনো আর্থিক সহায়তা নেই। সরস্বতী ও জন্মাষ্টমী ছাড়া অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠানের জন্যও কোনো বাজেট বা অনুদান থাকে না। এসব আয়োজন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা তুলে করতে হয়।বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যে ২ টা প্রোগ্রামের (জন্মাষ্টমী ও সরস্বতী পূজা) বাজেট দেয়,তাও আবার পূজার ৩ মাস পর টাকা হাতে পাই,যা পূজার খরচের ৫০% ও হয়না।

হাবিপ্রবি সনাতন বিদ্যার্থী সংসদের সভাপতি রিপন চন্দ্র সেন বলেন:
২০১৩ সালে রিজেন্ট বোর্ডে পাশ হওয়া হাবিপ্রবি কেন্দ্রীয় মন্দির,২০২৩ সালে ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলনের মুখে প্রশাসন যে অস্থায়ী জায়গা দেখায় দেয়,তা আমাদের সাথে প্রহসন ছাড়া আর কিছুই নয়।এরকম টালবাহানা দ্রুত আশু ঘটুক।বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জায়গায় এমন উদাসীনতা, অবহেলা কাম্য নয়।

মন্দির বিষয়ে কোন আবদার,সমস্যার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ডিরেক্ট নাকচ করে দেয়া,চেম্বারের দরজায় বাইরে থেকে কথা বলা,চেম্বারে ঢুকতে না দেয়া নির্লজ্জ্বতা ছাড়া আর কিছুই নয়।

হাবিপ্রবির বুকে একখন্ড অবহেলার স্থান কেন্দ্রীয় মন্দির।মন্দিরের অস্থায়ী ভাবে যে জায়গা দেখায় দিল,সেটাও ময়লার ভাগার ছিল,এখনোও যে পুকুর আছে,সেখানে হলের ময়লা ফেলা হয়।ড্রেনের লাইনের ময়লা মন্দিরে গিয়ে জমা হয়।মন্দির হলো পবিত্রতার জায়গা, আত্মশুদ্ধির জায়গা অথচ হাবিপ্রবি মন্দিরে বসে আত্মশুদ্ধির বদলে ময়লার গন্ধে নাক ছিটকাতে হয়।

আমরা হাবিপ্রবি সনাতন ধর্মাবল্মবী সকল সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রশাসন কে অনুরোধ করছি,যথাযথ পদক্ষেপ নিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে মন্দির স্থায়ীকরন করে,২০০০ সনাতনী শিক্ষার্থীদের প্রার্থনার যথাযথ পরিবেশ তৈরি করে দিতে।এই অবহেলা আমাদের ২০০০ ছাত্রছাত্রীদের নয়,এই অবহেলা বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে হাবিপ্রবি অসম্মান।

মন্দিরের সকল সমস্যার দ্রত সমাধান হোক।সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হোক হাবিপ্রবি।বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কে অনুরোধ করছি,আমাদের প্রার্থনার যথাযথ পরিবেশ তৈরি করে দিন।

হাবিপ্রবি মন্দিরের এই সমস্যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও লিখেছেন অনেক শিক্ষার্থী, তবে তাদের প্রশাসনের প্রতি একটাই দাবি, মন্দিরের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা চাই,স্থায়ী মন্দির চাই।

 

আপনার পছন্দ হতে পারে