চাঁদাবাজিসহ সব ধরনের অপকর্মের বিরুদ্ধে সারজিস আলমের নেতৃত্বে পঞ্চগড় শহর থেকে বাংলাবান্ধা পর্যন্ত শনিবার (১১ অক্টোবর) লংমার্চ শুরু হয়। সেই লংমার্চ শেষে রাত সাড়ে ৯টার দিকে বক্তব্য রাখেন সারজিস।
বক্তব্য দেওয়ার সময় বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় সারজিস বলেন, ‘এর আগেও পঞ্চগড়ে এনসিপির প্রোগ্রাম চলাকালে বিদ্যুৎ গেছে।নেসকোর যে মালিক তাকে এবং তার বাপকে জবাব দিতে হবে, প্রোগ্রাম চলাকালে, এটা হয় কেন? এক দিন হইতো, দুই দিন হইতো কিচ্ছু বলতাম না, তিন দিনের তিন দিনই এটা হইছে। এই রাজনৈতিক দেউলিয়াদের আমরা দেখে নেবো তাদের কলিজা কত বড়। কলিজা ছিঁড়ে রাস্তায় ফেলে রাখবো।’
সারজিস আলম ঘোষণা করেন, ‘এরপর থেকে কোনো প্রতিষ্ঠান পঞ্চগড়ে যদি রাজনৈতিক পক্ষপাতমূলক আচরণ করে, ওই প্রতিষ্ঠান এই পঞ্চগড়ে থাকবে না, এটা আমার নিজের কমিটমেন্ট। আপনাদের মতো দেউলিয়ারা নিজের আখের গোছাতে শুরু করেন। এটা পঞ্চগড়, আপনার এই দেউলিয়াপনা দেখানোর মতো জায়গা নয়। খুনি হাসিনার মতো স্বৈরাচারকে গোনায় ধরি নাই, তোর মতো জেলার-বিভাগের নেসকোর দায়িত্বশীলদের গোনায় ধরার টাইম নাই।’
সারজিস আলম আরও বলেন, ‘যখনই আপনি চাঁদাবাজ, দখলদার, সিন্ডিকেট, মাদক ব্যবসায়ী, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কথা বলবেন, তখনই কারও গায়ে জ্বালা ধরে যায়। তখনই এভাবে আপনাকে বিভিন্নভাবে বাধা দেওয়া হয়। কিন্তু আমরা স্পষ্ট করে বলি, পঞ্চগড়ের মাটিতে এই ধরনের ক্ষমতার অপব্যবহার করা, দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ, সিন্ডিকেট পরিচালনাকারী, দখলদার, মাদক ব্যবসায়ীদের আমরা যত দিন বেঁচে আছি, তাদের আর শান্তির ঘুম হবে না। শুধু সময়ের অপেক্ষা। তাদের আমরা আপাদমস্তক দেখে নিব, তাদের কলিজা কত বড় হয়ে গেছে।’
তার এই বক্তব্য ঘিরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।তবে আজ রবিবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে নিজের এমন বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেন সারজিস।
পোস্টে তিনি লিখেন,’বিগত এক মাসে পঞ্চগড় জেলায় এনসিপি ৩টি প্রোগ্রাম আয়োজন করেছে। প্রতিটি প্রোগ্রামে যখন আমি বক্তব্য দেওয়া শুরু করি তার এক দুই মিনিট পরে বিদ্যুৎ চলে যায়। প্রথমবার যখন হয়েছিল কিছু বলিনি। মনে হয়েছিল এটা হতেই পারে। দ্বিতীয়বার যখন একই ঘটনা ঘটে তখনও কিছু বলিনি কিন্তু তাদের ইনটেনশন নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছিল। গতকাল আবার একই ঘটনা। প্রোগ্রামের আগে-পরে নয়, অন্য কারো বক্তব্যের সময় নয়। ঠিক আমি যখন কথা বলা শুরু করি তখন আবার বিদ্যুৎ চলে যায়। কথা বলা শেষ হলে বিদ্যুৎ চলে আসে। সকল মিডিয়া এটার সাক্ষী।’
তিনি আরো বলেন,প্রত্যেকবার প্রোগ্রামের আগে প্রোগ্রাম সম্পর্কে এবং প্রোগ্রামের পর সৃষ্ট সমস্যা সম্পর্কে তাদের জানানো সত্ত্বেও একই চিত্র দেখা যাওয়ায় ‘তাদের সাথে সুশীলতা প্রদর্শন করা প্রয়োজন মনে করিনা’ বলে মন্তব্য করেন সারজিস। তবে একইসাথে তিনি লিখেন ‘ক্ষোভ ঝাড়তে গিয়ে যে উপমা ব্যবহার করেছি সেটা করা উচিত হয়নি বলে মনে করি।’
শনিবার দুপুর সোয়া ১২টায় পঞ্চগড় চিনিকল মাঠ থেকে লংমার্চটি যাত্রা শুরু করে। পথিমধ্যে এটি সদর উপজেলার কামাত কাজলদিঘী, চাকলাহাট, হাড়িভাসা, হাফিজাবাদ, অমরখানা ও সাতমেরা ইউনিয়ন অতিক্রম করে তেঁতুলিয়া উপজেলার দেবনগর, ভজনপুর, বুড়াবুড়ি ও শালবাহান ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে বিকেলে তেঁতুলিয়া উপজেলা সদরে পৌঁছায়। সেখানে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগ দেন সারজিস আলম এবং সন্ধ্যা ৬টার দিকে তেঁতুলিয়া চৌরাস্তায় প্রথম পথসভায় বক্তব্য রাখেন।