যখন থেকে মানুষ বুদ্ধিমত্তা অর্জন করে সৃজনশীলতার লক্ষণ প্রকাশ করতে শুরু করেছিল তখন থেকে সৃষ্টির শুরু কিভাবে তা নিয়ে বিতর্ক আয়োজিত হতে থাকে। এই মহাশূন্যে কিভাবে পৃথিবীর আগমন!
যুগ যুগ ধরে অনেক সভ্যতা পৃথিবীর আগমন নিয়ে নানান কাহিনী রচনা করেছে। উদাহরণস্বরূপ গ্রীক সম্প্রদায় এর মতে সৃষ্টির শুরুতে একজন দেবী, গায়া এবং একজন দেবতা ইউরেনাস এ আগমন ঘটে, তাদের মিলনে যেখানে গায়া ছিল পৃথিবী এবং ইউরেনাস ছিল আকাশমন্ডল, বহু দেবী এবং দেবতার সৃষ্টি হয়। আবার নর্স মিথলজির মতে পৃথিবীর নাম ছিলো মিদগার্ড যেখানে মানব জাতি এবং জর্ড নামক দেবীর আবাসস্থল। জোর্ড ছিলেন স্বয়ং পৃথিবী। মিডগার্ড কে ধরা হতো বিশ্বের কেন্দ্র। এই সকল মিথলজি কিংবা রূপকথা থেকে পৃথিবীর সৃষ্টি রহস্য উন্মোচন এর প্রতি মানুষ এর তীব্র আকাঙ্ক্ষার রূপায়িত হয়েছে।
এই আধুনিক জীবনের নানা ব্যস্ততার মাঝেও যারা এখনো স্বর্গ মন্ডল এর দিকে কৌতূহল নিয়ে তাকিয়ে থাকে এবং পৃথিবীর জন্ম রহস্য নিয়ে এখনো ভাবে, তাদের জন্যে এক রোমাঞ্চকর আবিষ্কার সামনে এসেছে। অরিয়ন বা কালপুরুষ নক্ষত্র মণ্ডলে HOPS – 315, নামক এক নক্ষত্রের দেখা মিলেছে। যা কিনা তার চার পাশে গ্রহ গঠণ প্রক্রিয়ার আভাস দেখাচ্ছে। এতে মহাবিশ্ব কে নতুন করে জানার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। পৃথিবীর সর্বাধিক কার্যকরী দুইটি টেলিস্কোপ, জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ ও আলমার মাধ্যমে এই নক্ষত্র কে পর্যালোচনা করার মাধ্যমে আমরা টাইম ট্রাভেল সম দৃশ্যের সম্মুখীন হতে যাচ্ছি।
HOPS-315, কে প্রোটোস্টার বলে , যার চারিপাশে আছে গ্যাস ও ধূলিকণা নির্মিত প্রোপ্ল্যানেটোরি ডিস্ক। ইতিহাসে প্রথম বার বিজ্ঞানীরা গ্যাস ও ধূলিকণা থেকে গ্রহ গঠণ প্রক্রিয়ার প্রত্যক্ষদর্শী হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন জানিয়েছেন লেইডেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মেলিসা ম্যাকক্লুরে।
সৌরজগতের প্রতিচ্ছবি:
উল্কাপিণ্ড সমূহের ভিতরে ক্রিস্টাল জমা থাকে যা সৃষ্টির সূচনা লগ্নে পৃথিবীর স্মৃতি ধরে রাখে ।এই ক্রিস্টাল গুলো টাইম ক্যাপসুল এর মত কাজ করে জানালেন মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের এডউইন বার্গিন । তিনি আরো জানান এই টাইম ক্যাপসুল গুলোর সাথে সাদৃশ্যতা পরিলক্ষণ করে আমরা জানতে পারি দূরবর্তী তারাদের সাথে আমাদের মিল কোথায় । সৌরমণ্ডলের সৃষ্টির সময় যেখানে যেই খনিজ উপাদান ছিল তার সাথে সামঞ্জস্যতা রেখে এই মহাজাগতিক ঘটনার খনিজ উপাদান এর উপস্থিতি অনুমান করা যাচ্ছে এবং সফলভাবে অনুসন্ধান করা যাচ্ছে। যার অর্থ এই দাঁড়ায় আমাদের সামনে পুনরায় সৌরমন্ডল গঠনের চলচ্চিত্র রচিত হচ্ছে।