পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার অষ্টমনিষা ইউনিয়ন বিএনপি’র নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি ও ওয়ার্ড কমিটি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, দীর্ঘ ১৭ বছর রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নেওয়া ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগপন্থী ও পারিবারিক আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে রাতের আঁধারে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে এবং বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওয়ার্ড কমিটি গঠনে ইউনিয়ন বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল মান্নানের স্বাক্ষর পাওয়ার কথা থাকলেও তা ছাড়া আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক মোজাম ও সদস্য সচিব ওয়াজ উদ্দিন নয়টি ওয়ার্ড কমিটির তালিকা প্রস্তুত করে উপজেলা বিএনপির কাছে জমা দেন। কোনো ধরনের আলোচনা বা মতামত না নিয়েই এই কমিটি গঠন করা হয় বলে অভিযোগ ত্যাগী নেতাদের।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা ২৬ আগস্ট মোটরসাইকেল শোডাউন ও বিক্ষোভ মিছিল করে ইউনিয়নের ১৯টি গ্রাম ঘুরে মতামত নেন। পরদিন অষ্টমনিষা বাজারে বিক্ষোভ ও সমাবেশে তারা ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন—বিতর্কিত আহ্বায়ক, সদস্য সচিব ও যুগ্ম আহ্বায়কদের অপসারণ করে নতুন কমিটি গঠন করতে হবে, নইলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। ৩০ আগস্ট সংবাদ সম্মেলন করে তারা অভিযোগের পক্ষে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে অভিযুক্তদের ছবি ও পোস্টার প্রকাশ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়লে ইউনিয়নে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন বাজার-ঘাটের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হবে। অনেকে মনে করছেন, ত্যাগী নেতাদের বাদ দিলে তরুণ প্রজন্ম রাজনীতি থেকে বিমুখ হয়ে পড়তে পারে।
সাবেক বিভিন্ন ওয়ার্ড নেতারা অভিযোগ করেন, যারা রাজপথে লড়াই করেছেন, জেল খেটেছেন, মামলা-মোকদ্দমা সামলেছেন—তাদের বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগপন্থীদের কমিটিতে রাখা হয়েছে।
ইউনিয়ন বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান বলেন, আহ্বায়ক হিসেবে যাকে দেওয়া হয়েছে তিনি সাবেক জামাত নেতা এবং আওয়ামী লীগের সঙ্গে চলাফেরা করেন। আর সদস্য সচিব ব্যবসায়িক পার্টনার হিসেবে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতির সঙ্গে সম্পর্ক রেখে আওয়ামী লীগের প্রোগ্রামে অংশ নেন। অথচ বিএনপি’র কোনো কর্মসূচিতে তাকে দেখা যায়নি।
অভিযুক্ত সদস্য সচিব ওয়াজ উদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি সবসময় দলের সঙ্গেই ছিলাম। যদি কেউ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ দিতে পারে আমি পদত্যাগ করবো।
আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক মোজামও একইভাবে অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন।
উপজেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব প্রভাষক জাফর ইকবাল হিরোক জানান, লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা আহ্বায়ক নূর মুজাহিদ স্বপন বলেন, যেহেতু জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিবের বাড়ি এই ইউনিয়নে, তাকে সঙ্গে নিয়েই বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হবে।