রাবি প্রতিনিধি-
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়েছে। আজ সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) প্রার্থীরা অনেকে বৃষ্টি উপেক্ষা করে দিনভর ক্যাম্পাসের বিভিন্ন এলাকায় প্রচার চালিয়েছেন। আবার কেউ কেউ ব্যস্ত সময় পার করেছেন লিফলেট ছাপাতে।
প্রচারণার প্রথম দিনে সকাল ১০টা থেকে শুরু হয় বৃষ্টি। থেমে থেমে বৃষ্টি চলে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। বৃষ্টি উপেক্ষা করেই প্রচারণায় নামে প্রার্থীদের অনেকে। তাঁরা টুকিটাকি চত্বর, পরিবহন মার্কেট, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও সৈয়দ ইসমাঈল হোসেন সিরাজী ভবনের সামনের ভ্রাম্যমাণ খাবার ও চায়ের হোটেলের ছাউনিতে বসে থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রচার চালান।
আজ বিকেল পৌঁনে ৫টার দিকে পরিবহন মার্কেটের ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আমানুল্লাহ আমান, রাবি শাখা সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহীসহ সংগঠনটির নেতা-কর্মীদের লিফলেট বিতরণ করতে দেখা গেছে। ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে দিনব্যাপী ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় প্রচারণা চালিয়েছেন ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থীরা। ছাত্রদল মনোনিত ভিপি প্রার্থী শেখ নূর উদ্দিন আবির প্রচারণা চালিয়েছেন সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ভবন, টুকিটাকিসহ গুরুত্বপূর্ণ জায়গায়। জিএস প্রার্থী নাফিউল ইসলাম জীবন লিফলেট হাতে প্রচারণা চালিয়েছেন শহীদুল্লাহ কলা ভবন, মমতাজ উদ্দিন অ্যাকাডেমিক ভবনে।
এ সময় ছাত্রদল মনোনিত এজিএস প্রার্থী জাহীন বিশ্বাস এষা বলেন, ‘আমরা ক্যাম্পাসে প্রচারণা চালাচ্ছি। শিক্ষার্থীদের থেকে ইতিবাচক সাড়াও পাচ্ছি। আমাদের বিজয়ের বিষয়ে আমরা শতভাগ আশাবাদী।’
ইসলামী ছাত্রশিবির মনোনীতÑসম্মিলিত শিক্ষার্থী জোটের ভিপি প্রার্থী মোস্তাকুর রহমান জাহিদ ও জিএস প্রার্থী ফাহিম রেজাকে একই সময় আলাদা আলাদা জায়গায় প্রচার চালাতে দেখা গেছে। মোস্তাকুর রহমান জাহিদ প্রচারণা চালিয়েছেন মমতাজ উদ্দিন অ্যাকাডেমিক ভবন, শহীদুল্লাহ কলা ভবন, বুুদ্ধিজীবী চত্ত্বর ও বিনোদপুর মেস এলাকায়। জিএস প্রার্থী ফাহিম রেজা প্রচারণা চালিয়েছেন সিরাজী ভবন ও রবীন্দ্র ভবন এলাকায়।
প্রচারণা করার একপর্যায়ে ছাত্রশিবির সমর্থিতÑসম্মিলিত শিক্ষার্থী জোটের ভিপি প্রার্থী মোস্তাকুর রহমান (জাহিদ) সাংবাদিকদের বলেন, ‘আচরণবিধি লঙ্ঘন না হওয়ার পরও যারা আমাদের সমালোচনা করছে, তাদেরকে আমরা ধন্যবাদ জানাই। তারা নিজেদের প্রচারণায় সময় ব্যয় না করে, আমাদের সমালোচনায় সময় ব্যয় করছে। আসলে এতে আমাদেরই একটা প্রচার হচ্ছে। আমরা কাঁধা ছুড়াছুড়ি করতে চাই না। আমরা নিজেদের কাজগুলো করে যেতে চাই। অনেক ছাত্রসংগঠন বিধি লঙ্ঘন করে আগেই লিফলেট বিতরণ করেছে, এটা আমরা নির্দিষ্ট জায়গায় অভিযোগ করব।’
এ ছাড়াও অন্যান্য প্যানেলের প্রার্থীরাও দিনব্যাপী প্রচার চালিয়েছেন। ‘সর্বজনীন শিক্ষার্থী সংসদ’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী তাসিন খান। তিনি সকাল থেকে ব্যস্ত ছিলেন লিফলেট ছাপাতে। দুপুরের পর কাজ শেষে তিনিসহ তাঁর প্যানেল প্রচারণা চালান। তাঁকে দেখা গেছে বিভিন্ন অ্যাকাডেমিক ভবন ও গুরুত্বপূর্ন সড়কে শিক্ষার্থীদের কাছে গিয়ে দোয়া ও ভোট চাইতে।
এ দিকে নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী, প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার দিন থেকে ভোট গ্রহণের ২৪ ঘণ্টা আগপর্যন্ত সব ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা করা যাবে। প্রচারণার সময় সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত। গতকাল রোববার বিকেলে ব্যালট নম্বর বরাদ্দ এবং রাতে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়।
আচরণবিধিতে নির্বাচনী সভা, সমাবেশ ও শোভাযাত্রার বিষয়ে বলা হয়েছে, প্রার্থী ও ভোটার ছাড়া অন্য কেউ কোনোভাবেই কোনো প্রার্থীর পক্ষে বা বিপক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় প্রচারণা চালাতে পারবেন না। নির্বাচনী প্রচারণায় শুধু সাদা-কালো পোস্টার ব্যবহার করা যাবে। নির্বাচনী প্রচারণায় কোনো ভবনের দেয়ালে নির্বাচনসংক্রান্ত লেখা ও পোস্টার লাগানো যাবে না। এ ছাড়া আরও বিভিন্ন বিধিনিষেধ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।