তানজীর হোসাইন সাকিব, জাবি
চলতি বছরের জুলাই মাসে পারিবারিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের তারিকুল ইসলাম ও ফার্মেসী বিভাগের শিক্ষার্থী নিগার সুলতানা দম্পতি। বিবাহের মাত্র দুই মাস পরেই জাকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবির সমর্থিত সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট প্যানেল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেই বাজিমাত করেছেন এই দম্পতি।
তারিকুল ইসলাম জাকসুর কার্যকরী সদস্য (পুরুষ) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ১ হাজার ৭৪৬ ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। আর নিগার সুলতানা সহ-সমাজসেবা ও মানবসেবা উন্নয়ন সম্পাদক (নারী) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ২ হাজার ৯৬৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
দীর্ঘ ৩৩ বছর পর গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচন। নির্বাচন শেষে ৪৪ ঘণ্টা পর ভোট গণনা শেষে এই দম্পত্তির নাম ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল থেকে নির্বাচন করে এই দম্পতির জয়ী হওয়ায় প্রশংসা করছেন শিক্ষার্থীরা।
তারিকুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সমাজসেবা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে নিগার সুলতানা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোরআন এন্ড কালচারাল স্টাডি ক্লাবের কো-হেড (ফিমেল সেকশন) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে তিনি ছাত্রী সংস্থার সদস্য কি না সেটি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নির্বাচন কমিশনের দেওয়া জাকসুর ফলাফলের বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ টি আবাসিক হলের মধ্যে সহ-সমাজসেবা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক পদে ২০ টি হলেই সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছেন নিগার সুলতানা। শুধুমাত্র আল-বেরুনী হলে তিনি ৩৫ টি ভোট পেয়ে এই ভোটকেন্দ্রে দ্বিতীয় হয়েছেন।
এ বিষয়ে তারিকুল ইসলাম বলেন, জাকসুতে আমার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা কর ছিলো ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত। আর আমার স্ত্রীর সাথে সংগঠন থেকে যোগাযোগ করা হয়েছিলো। তখন উনি রাজি হয়ে আমাকে জানিয়েছিলো। আমি এপ্রিশিয়েট করেছিলাম যে একসঙ্গে স্বামী-স্ত্রী নির্বাচন করব। তারপর দুজনই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করি এবং দুজনকেই শিক্ষার্থীরা গ্রহণ করেছে এটা খুবই আনন্দের বিষয়।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা আমাদের ওপর যে আস্থা নিয়ে নির্বাচিত করেছেন সেসব অঙ্গীকার আমরা অক্ষরে অক্ষরে পালন করব ইনশাআল্লাহ।