কু্বি প্রতিনিধি:
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) লোক প্রশাসন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আফরিন ও তার মা ফাতেমা আক্তারের ‘হত্যার’ ঘটনাকে ‘ছোট ঘটনা’ আখ্যায়িত করার অভিযোগ উঠেছে রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে।
সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২ টায় দিকে মানববন্ধন কর্মসূচিতে যাওয়ার জন্য বাস চাইতে গেলে তিনি একথা বলেন বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।
এ বিষয়ে নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আদনান সাঈফ বলেন, “তিনি (ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার) দায়িত্বরত জায়গা থেকে এই কথা কখনো বলতে পারেন না। তিনি শিক্ষার্থীদের ইমোশনের দিকটা ধারণ করতে পারেননি যার কারণে এই ঘটনাকে ছোট ঘটনা বলেছেন। আমি মনে করি উনার এখন সবার সামনে ক্ষমা চেয়ে পদত্যাগ করা উচিত।”
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফরহাদ মিয়া কাউছার বলেন, ‘বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করার জন্য ভিসি মহোদয়ের কাছে বাস চাই। এর আগেও তাঁকে ফোন দেওয়া হয়, তিনি আমাদেরকে বিভিন্ন ইস্যু দেখিয়েছেন—যে আমরা নিয়মের বাইরে যেতে পারি না, আমাদের বাজেট কম, ড্রাইভার নেই। শেষ পর্যন্ত যখন আমরা তার রুমে গেলাম তিনি কথার প্রেক্ষিতে অনেকক্ষণ বোঝানোর চেষ্টা করেছেন যে বাস দেওয়া যাবে না। শেষ পর্যন্ত বলেন, তোমরা যদি এমন ছোটখাটো বিষয়ের জন্য বাস চাও তাহলে আমরা কীভাবে দেব? অর্থাৎ, তিনি আজকের এই ঘটনাটিকে ছোটখাটো হিসেবে ধরে নিয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এর প্রতিবাদেই আমরা প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়েছি। আমরা তাঁর পদত্যাগ এবং জনসম্মুখে ক্ষমা দাবি করছি। ক্ষমা চেয়েও তাঁকে পদত্যাগ করতে হবে।’
এ বিষয়ে রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ারা হোসেন বলেন, ‘আমি ওইভাবে বলি নাই, তারা এটাকে ভুলভাবে উপস্থাপন করেতেছে। আমি শুধু উদাহরণ টেনে বলছি অনেকে সময় ছোটখাটো বিষয়ের জন্যও বাস চাইতে আসে। যদি এটা ছোট ঘটনা হতো তাহলে সকালে বাস দেওয়া হতো না এবং আমাদের প্রশাসনের লোকও যেতো না।’
প্রসঙ্গত, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রেজিস্ট্রার দপ্তর এবং প্রশাসনিক ভবনে তালা দেয় শিক্ষার্থীরা। এরপর দুপুর দুইটার দিকে প্রশাসনিক ভবনের তালা খুলে দেওয়া হলেও প্রতিবেদনে লিখা পর্যন্ত রেজিস্ট্রার দপ্তর অবরুদ্ধই থাকে।