জাবি প্রতিনিধি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে প্রগতিশীল শিক্ষার্থীদের প্যানেল সম্প্রীতির ঐক্য প্যানেলের সহ-সভাপতি (ভিপি) প্রার্থী অমর্ত্য রায় জনের প্রার্থীতা বাতিল করা হয়েছে।
আজ শনিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘জাকসু’র গঠনতন্ত্রের ৪ ও ৮ ধারা মোতাবেক ভোটার ও প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য বিবেচিত হওয়ায় ভোটার ও প্রার্থী তালিকা হতে তার নাম প্রত্যাহার করা হলো।’
ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক এই নেতার প্রার্থীতা বাতিলের পর বিষয়টি নিয়ে ক্যাম্পাসে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। অনেক শিক্ষার্থী বলছেন, জাকসু বানচাল করতেই নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের পাঁচদিন আগে এমন হঠকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে মনে করছেন তারা।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ও শিক্ষা শাখা সূত্রে ভিন্ন তথ্য পেয়েছে ইনসাইট ঢাকা ডটকম। সূত্র জানায়, অমর্ত্য রায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষের (৪৭ তম ব্যাচের) শিক্ষার্থী। তিনি ২০২১ সালের স্নাতক চতুর্থ বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষায় নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করেন এবং ৪০৭ ও ৪০৮ নম্বর কোর্সে অকৃতকার্য হন। পরের ব্যাচের সঙ্গে ২০২২ সালে অর্থাৎ ওই অকৃতকার্য কোর্স দুটির পরীক্ষা আবার দেন তখনও অকৃতকার্য হন। এরপর বিশেষ বিবেচনায় ২০২৩ সালে তিনি আবার ওই দুটি পরীক্ষা দিলেও ৪০৮ নম্বর কোর্সে অকৃতকার্য হন। এরপর গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভা থেকে তাকে বিশেষ বিবেচনায় ওই একটি কোর্সে অনিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ সিন্ডিকেট সভার রেজুলেশন থেকেও এমন তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, নিয়ম অনুযায়ী স্নাতক (অনার্স) শ্রেণিতে একজন শিক্ষা ফাইনাল ইয়ারে দুইবার পরীক্ষা দিতে পারেন। তবে অমর্ত্য রায় দুইবারের অধিক পরীক্ষা দেওয়ায় তার নিয়মিত ছাত্রত্ব শেষ হয়ে অনিয়মিত শিক্ষার্থী বা স্পেশাল শিক্ষার্থী হিসেবে গণ্য হয়েছে।
জাকসুর গঠনতন্ত্রের ৪ নম্বর ধারায় বলা আছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল নিয়মিত ও বৈধ শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংসদের সদস্য বলে গণ্য হবেন। কেবল তারাই ভোটার বলে বিবেচিত হবেন এবং শিক্ষার্থী সংসদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। এই ধারায় কিছু শর্তাবলি রয়েছে, এমধ্যে যে সকল শিক্ষার্থী স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে ৬ বছর এবং/অথবা স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে ২ বছর ধরে অধ্যয়ন করছেন কেবল সেসকল শিক্ষার্থীর নাম জাকসুর ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।
গত বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সিন্ডিকেট সভা থেকে ভিপি প্রার্থী অমর্ত্য রায়ের নিয়মিত ছাত্রত্ব নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী অমর্ত্য রায়ের নিয়মিত ছাত্রত্ব না থাকায় তাকে অনিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে রায় দেয় সিন্ডিকেট। এরপর আজ শনিবার নির্বাচন কমিশন থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে তার প্রার্থীতা প্রত্যহারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে জাকসু নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিনি ভোটাধিকার হারিয়েছেন তাই তার প্রার্থীতা প্রত্যাহারের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে।