ইবির গুম হওয়া দুই শিবির নেতার ফেরতের দবিতে মানববন্ধন

by অনলাইন ডেস্ক
Site Favicon প্রকাশিত: ৩০ আগস্ট ২০২৫ ২০:০৫
A+A-
Reset

ইবি প্রতিনিধি:

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের গুম হওয়া দুই শিবির  নেতা ওলিউল্লাহ ও আল মুকাদ্দাসের ফেরতের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে ।
শনিবার (৩০ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে মানববন্ধন করে শাখা ছাত্রশিবির।

গুম হওয়া আল মুকাদ্দাস  আল- ফিকহ্ বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ছিলেন। ২০১২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারী ঢাকা থেকে কুষ্টিয়া যাওয়ার পথে গুম হয়। ওলিউল্লাহ ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়াত ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মেধাবী ছাত্র এবং শিবির নেতা। ২০১২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারী ঢাকা থেকে কুষ্টিয়াগামী হানিফ পরিবহণের বাসে ওঠেন ওলিউল্লাহ। সাভারের নবীনগর থেকে তাকে এবং তার সঙ্গি শিবির নেতা আল মুকাদ্দাসতে তুলে নেওয়া হয় বলে পরিবারের অভিযোগ।

মানববন্ধনে ওলিউল্লাহর বড় ভাই অধ্যক্ষ খালিদ সাইফুল্লাহ,  শিবিরের ইবি শাখার সভাপতি মাহমুদুল হাছান, সেক্রেটারি ইউসুফ আলীসহ শতাধিক নেতা কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় তারা, “আমার ভাই আয়না ঘরে প্রশাসন কি করে,”  “প্রশাসনের তালবাহানা মানি না মানবো না,” “আমার ভাইয়ের খোঁজ দিতে হবে দিতে হবে”  “প্রশাসনের প্রহসন মানি না মানবো না,” স্লোগান দিতে দেখা যায়।

গুম হওয়া শিক্ষার্থী অলিউল্লার বড় ভাই অধ্যক্ষ খালিদ সাইফুল্লাহ বলেন, “আমি যখন বিশ্ববিদ্যালয় আসি তখন আমার পা কেঁপে উঠে, আমি অস্থির হয়ে উঠি, ক্যাম্পাসে আসার সময় আমি বাবা-মাকে বলে আসতে পারি না যে আমি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় যাচ্ছি। কেউ যদি দোষী হয় পদ্ধতিগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তার বিচার হোক শাস্তি পাক, এই সোনার বাংলাদেশে আমার শত্রু গুম হয়ে যাক তা আমরা চাই না।

তিনি আরো বলেন,  এধরনের গুম-হত্যা একটি দেশের বড় হওয়া, সমৃদ্ধ হওয়াকে থামিয়ে দেয়। আমি বলতে চাই তৎকালীন  প্রশাসনে  সহযোগিতা ছাড়া এ ধরনের কাজ কখনোই সম্ভব ছিল না।
আমি এবং মুকাদ্দাসের চাচা ঘুমের বিষয়ে  মিডিয়ার ঘরে ঘরে গিয়েছিলাম, প্রশাসনের কাছে গিয়েছিলাম সে সময় আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি, তৎকালীন এখানকার স্থানীয় প্রশাসন এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের যোগসজাগেইই ওয়ালিউল্লাহ-মুকাদ্দাসের গতিবিধি চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছিল। প্রশাসনকে বলি, আমাদের তাদের খোঁজ দিন। আমার বাবা বারবার বলে যদি ওরা না থাকে তাহলে তাদের কবর দেখিয়ে দিক, আমরা ওদের কবরটা দেখতে চাই।  আজকের এই মানববন্ধনে আমরা সর্বোচ্চ প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই শুধু ওয়ালি আর মুকাদ্দাস নয় হারিয়ে যাওয়া প্রতিটি ঘুমের স্বীকার পরিবারের পক্ষ থেকে আমরা দাবি জানাই আপনারা তাদের খোঁজ বের করে দিন।

শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মাহমুদুল হাসান বলেন, “ আওয়ামী ফ্যাসিবাদ পতনের একটি বছর হয়ে গেল। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা ওয়ালিউল্লাহ-মুকাদ্দাস ভাইয়ের সন্ধান পাই নি। সরকার গুম কমিশন তৈরি করলেও সেটার কার্যকরি পদক্ষেপ আমরা দেখতে পাইনি। আমার মনে হয় এই সরকার ঘুরি পেচিয়ে ফ্যাসিবাদকে আশ্রয় দিচ্ছে। গতকালকে নূরের উপর হামলার মাধ্যমে সেটি প্রমানিত হয়েছে। যদি উপদেষ্টারা পদত্যাগ করেন তবে আপনারাও গুমের শিকার হতে পারেন। তাই আপনাদেরকে অনুরোধ জানাই আমাদের ওয়ালিউল্লাহ-মুকাদ্দাস ভাইয়ের সন্ধান দিন।
তিনি আরও বলেন, তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্বে যারা ছিলেন তাদেন ধরুন। তাহলে আমার মনে হয় অনেক কিছু বের হয়ে যাবে। আপনারা কেন ধরছেন না? কেন কুলুপ আটা আপনাদের মুখে? বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এর দায় এড়াতে পারে না। প্রশাসনকে বলতে চাই ওয়ালিউল্লাহ -আল মুকাদ্দাস ভাইয়ের ব্যাপারে দ্রুত কথা বলুন। নইলে বিশ্ববিদ্যালয়কে অচল করে দেওয়া হবে। প্রশাসনে এখনো অনেক ফ্যাসিবাদের দোসর আছে, সরকারকে বলছি প্রশাসনকে ঢেলে সাজান, আর যেন কোনো মা-বাবাকে তাদের সন্তানদেরকে হারাতে না হয়, সে ব্যাপারে এখনি পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।

আপনার পছন্দ হতে পারে