জাবি প্রতিনিধি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে আচরণবিধি ভঙ্গ করে ভোটের প্রচারণা চালাচ্ছেন বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও প্রার্থীরা। তবে এ প্রচারণায় কিছুটা কৌশল অবলম্বন করছেন প্রার্থীরা।
তবে তারা সরাসরি ভোট না চেয়ে ভোটারদের কাছে দোয়া চাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক ফেসবুক গ্রুপগুলোতে বেশ সমালোচনাও হচ্ছে। তবে এতোকিছুর পরও জাকসু নির্বাচন কমিশন সবকিছু দেখেও না দেখার ভান ধরেছেন বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
জাকসু নির্বাচনের আচরণবিধি অনুযায়ী, প্রার্থীরা নির্বাচনের দুসপ্তাহ আগে প্রচার-প্রচারণায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন বলে নির্দেশনা দেওয়া আছে। সে হিসেবে আগামী ২৯ আগস্ট থেকে প্রার্থীদের প্রচারণা শুরু করার কথা। ওই সময়ের আগে কেউ আচরণবিধি ভঙ্গ করলে প্রার্থীতাও বাতিল হতে পারে বলে উল্লেখ রয়েছে। তবে সেসবের তোয়াক্কা করছেন না প্রার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর থেকেই ইসলামী ছাত্রশিবির, বাগছাস সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীরা ফেসবুকের মাধ্যমে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এরবাইরে ছাত্রদলের কিছু নেতা-কর্মী ও গণ-অভ্যুত্থান রক্ষা আন্দোলন ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও প্রচারণা চালাচ্ছেন।
তবে তারা সরাসরি ভোট চাচ্ছেন না। ফেসবুকে ফটোকার্ড শেয়ারের মাধ্যমে এবং সশরীরে ভোটারদের কাছে গিয়ে দোয়া চাচ্ছেন বলে দাবি প্রার্থীদের।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, জাকসু নির্বাচনের যে আচরণবিধি রয়েছে সেটা অনুযায়ী বেশিরভাগ প্রার্থীই আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন। তবে বামপন্থী সংগঠনগুলোর প্রার্থীরা আচরণবিধিকে সম্মান জানিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মাহাদি হাসান বলেন, অনেক হলে প্রার্থীরা রুমে রুমে গিয়ে ভোটের প্রচারণা চালাচ্ছেন। সেসব নিয়ে ফেসবুকে লেখালেখি হলেও নির্বাচন কমিশন কর্নপাত করছেন না। সব সংগঠন মিলেমিশে প্রচারণা চালাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের এদিকটাতে নজর দেওয়া জরুরি বলে মনে করেন তিনি।
সার্বিক বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও নির্বাচন কমিশনের সদস্য সচিব অধ্যাপক রাশিদুল আলমের কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে মুঠোফোনে তিনি বলেন, আগামীকাল মিটিং আছে সেখানে সব অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে। তারপর এ বিষয়ে কথা বলব।