আগস্টের পরে মার্কিন দূতাবাস থেকে বাংলাদেশ চলছে: ফরহাদ মজহার

by অনলাইন ডেস্ক
Site Favicon প্রকাশিত: ১৯ আগস্ট ২০২৫ ২১:০২ আপডেট: ১৯ আগস্ট ২০২৫ ২১:১৪
A+A-
Reset

রাবি প্রতিনিধি:

আগস্টের পরে মার্কিন দূতাবাস থেকে বাংলাদেশ চলছে বলে মন্তব্য করেছেন কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার। তিনি বলেন, আপনারা আরেকটা প্যালেস্টাইনের ওপর বসে আছেন। আপনাদের নিরাপত্তাহীন করে দেওয়া হয়েছে। এটা বুঝতে পারছেন না। যেমন বুঝতে পারেননি ৫ আগস্টের পরে শেখ হাসিনাকেই শাসনভার দিয়েছেন। বর্তমানে যা চলে গেছে মার্কিন দূতাবাসে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) সামাজিক সংগঠন ‘রেনেসাঁস’র আয়োজনে ‘গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার রূপরেখা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ কথা বলেছেন  তিনি। মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) বিকেল ৫ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ভবনে এ আয়োজন করা হয়।

এখন যারা নির্বাচন চান তারা ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসন করছেন বলে মনে করেন ফরহাদ মজহার। তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র এবং ফ্যাসিবাদ খুবই কাছাকাছি। হিটলার, মুসোলিনি, শেখ হাসিনা সবাই নির্বাচিত হয়েই এসেছিলেন। ফলে এখন যারা নির্বাচন নির্বাচন করছেন তারা ফ্যাসিবাদকেই পুনর্বাসন করছেন। কারণ আমরা আমাদের মূল সমস্যা খুঁজতেছি না। আমাসের নির্বাচন বাদেও অনেক সমস্যা রয়েছে। আমাদের শিক্ষা, নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের মতো সংকটগুলোর সমাধান হয়নি।’

বর্তমান সরকারের দায়িত্বগ্রহণের মাধমে সাংবিধানিক প্রতিবিপ্লব হয়েছে উল্লেখ করে এই চিন্তক বলেন, ‘৫ আগস্টে একটা গণঅভ্যুত্থান হয়েছে। এরপরে ৩ দিন সরকার বিহীন অবস্থায় ছিলো। জনগনের হাতে নতুন রাষ্ট্র গঠনের ক্ষমতা এসেছিলো। কিন্ত সে আর সেইটা করতে পারলো না। ৮ তারিখেই সাংবিধানিক প্রতিবিপ্লব হয়েছে গিয়েছিল। শেখ হাসিনার সংবিধানে চুপ্পুর হাতে শপথ করে আপনারা শেখ হাসিনার হাতে ক্ষমতা দিয়েছেন।’

আধুনিক জাতি রাষ্ট্রের কোনো অস্তিত্ব আর নেই উল্লেখ করে এই রাষ্ট্র চিন্তক আরও বলেন, ‘অল্পকিছু কোম্পানি পুরো বিশ্বের টেকনোলোজি এবং অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বলে আর কোনো রাষ্ট্র নেই। আমেরিকা বলে যেটা আছে সেইটা আসলে ইজরায়েল। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ সব এখন ইজরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। ঠিক তেমনি বাংলাদেশ বলেও কোনো রাষ্ট্র নেই। এখন রাষ্ট্র বলে আর কিছু নাই। এখন আছে কয়েকটা রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী।’

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে দেখবেন সেক্যুলাররা ইসলামপন্থীদের কথা শুনতে পারেন না এবং ইসলামপন্থীরা সেক্যুলারদের কথা সহ্য করতে পারেন না। এমন বাস্তবতা নিয়ে আপনি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন না। অপরের প্রতি আকুতি ছাড়া গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা অসম্ভব।’

দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ভবিষ্যতে রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে মনে করেন এই দার্শনিক। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে রাজনৈতিক উপস্থিতি অনেক বেশি। যদিও এখানে অপরের প্রতি অসহনশীলতা রয়েছে। তবুও এটা উন্নতি করতে পারলে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও বোঝাপড়া বদলে যাবে। এর প্রাথমিক ধাপ হতে পারে একাডেমিক ফ্রিডম। এটা আসলেই গণতান্ত্রিক রূপান্তরের শুরু হতে পারে।’

এ সময় বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক আ-আল মামুন। তিনি বলেন, ‘উপমহাদেশে শিক্ষায় সবচেয়ে কম বরাদ্দ দেওয়া হয় বাংলাদেশে। বিশ্ববিদ্যালয় কেন বাজেট পাচ্ছে না, কেন ভালো শিক্ষক-ছাত্র আসতেছে  না প্রশ্ন তুলতে হবে। শিক্ষার্থীদের অধিকারের রূপরেখা কীভাবে হবে, তার সঙ্গে রাষ্ট্রের কী সম্পর্ক এ প্রশ্ন তুলতে হবে। আমাদের তথাকথিত সায়ত্বশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ে যতটুকু গণতন্ত্র আছে ছোট ছোট বিশ্ববিদ্যালয়ে সে সুযোগ আরও সংকুচিত। এখানে একাডেমিক ফ্রিডম নষ্ট হয়েছে। এটা নিশ্চিত করতে গণতন্ত্র প্রয়োজন।’

দলীয় রাজনীতির সমালোচনা করে এই অধ্যাপক আরও বলেন, ‘আমাদের দেশে শিক্ষকদের ৩ টা দল পাওয়া যেব যাবে। আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং জামায়াত। বাকীরা সবাই খড় কুটো। এটা থেকে উত্তরণ করতে হবে। শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রশ্নে সোচ্চার হবে। আবার আমরা তাদের কী ধরনের কাঠামো দিচ্ছি সেটাও বুঝতে হবে। আমাদের এই পার্টি পলিটিকসের বাইরে আসতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে আস্তিক ও নাসিকের তর্কের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। কেউ আল্লাহকে অস্বীকার করলেই তাকে সাতেমে রাসুল ট্যাগ দেওয়া যাবে না। তবেই কেবল গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত হবে।’

সভায় কী নোট স্পিকার হিসেবে প্রস্তাবনা তুলে ধরেন রেনেসাঁস’র সংগঠন রাবেয়া মুহিব। এ ছাড়াও সভায় বক্তব্য রাখেন কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক আ-আল মামুন,  বিশ্ববিদ্যালয়ের (ভারপ্রাপ্ত) রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল মাসউদ, নাট্যকলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুষ্মিতা চক্রবর্তী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক মেহেদী সজীব, ছাত্রদলে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাহিন বিশ্বাস এষাসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক, সামাজিক এবং রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের নেতারা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন বিভাগ ও ইন্সটিটিউটের দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী।

আপনার পছন্দ হতে পারে