সম্প্রতি মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত তিনদিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন-ফিউচার অ্যাকশান সামিটে বাংলাদেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করে ফিউচার সাস্টেইনেবল চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন শেখ আব্দুল্লাহ আল সাইদ।
বিশ্বের ৪০টিরও বেশি দেশ থেকে আগত দুই শতাধিক উদীয়মান তরুণ প্রতিনিধি, চেঞ্জমেকার ও পেশাজীবীরা সম্মেলনটিতে অংশগ্রহণ করেন। সম্মেলনটির মূল প্রতিপাদ্য ছিল জাতিসংঘ ঘোষিত ১৭টি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs)-এর বাস্তবায়নে তরুণদের অংশগ্রহণ, নেতৃত্ব এবং উদ্ভাবনী চিন্তা।
জানা যায়, তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলনের প্রথম দিনটি শুরু হয় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে আন্তঃসাংস্কৃতিক পরিচিতি ও SDG বিষয়ক আলাপচারিতার মাধ্যমে। দুই শতাধিক প্রতিনিধির অংশগ্রহণে আয়োজন করা হয় ওয়ার্কশপ ও দলভিত্তিক আলোচনা, যেখানে “ইয়ুথ, এবং সিকিউরিটি” “সোশ্যাল জাস্টিস” এবং “সাস্টেইনেবল মাইন্ডসেট” নিয়ে মতবিনিময় হয়। অংশগ্রহণকারীরা SDG লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে নিজেদের ব্যক্তি ও সামাজিক বাস্তবতা কীভাবে সংযুক্ত, তা নিয়ে কাজ করেন।
সম্মেলমের দ্বিতীয় দিনটি ছিল কার্যকরী পরিকল্পনা, নীতি-প্রস্তুতি ও প্রকল্প উন্নয়নের। দলভিত্তিক সেশনে প্রতিনিধিরা কাজ করেন SDG লক্ষ্যমাত্রা ৫ (জেন্ডার সমতা), লক্ষ্যমাত্রা ১২ (রেসপন্সিবল কনজামশন এন্ড প্রোডাকশন) এবং লক্ষ্যমাত্রা ১৩ (ক্লাইমেট একশন) নিয়ে। এদিন সাইদ যে দলে ছিলেন তারা উপস্থাপন করেন ফাস্ট ফ্যাশন শিল্পের পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব নিয়ে একটি বিশ্লেষণধর্মী প্রজেক্ট।
শেখ আব্দুল্লাহ আল সাইদ জানান, “এই প্রজেক্টে তুলে ধরা হয়—বাংলাদেশের গার্মেন্টস খাতে ফাস্ট ফ্যাশনের কারণে সৃষ্ট অতিরিক্ত উৎপাদন, শ্রমিকের অধিকারহানি এবং টেক্সটাইল বর্জ্যের পরিবেশগত ক্ষতির বিষয়গুলো। পাশাপাশি প্রস্তাব করা হয় একটি টেকসই মডেল: “Fast Fashion to Fair Future”, যা স্থানীয়ভাবে ethical sourcing, fashion ক্যাম্পেইন, এবং শ্রমিকদের নেতৃত্বে পরিচালিত ব্যবসা উদ্যোগকে উৎসাহিত করে।”
সম্মেলনের তৃতীয় বা শেষদিনে দলগুলো উপস্থাপন করেন তাদের বাস্তবভিত্তিক সমাধান। সাইদের দল স্টোরিটেলিং, ডেটা বিশ্লেষণ এবং বাস্তবায়নযোগ্য প্ল্যানসহ পরিবেশবান্ধব ফ্যাশন মডেল উপস্থাপন করে। প্রজেক্টটির প্রভাব, উদ্ভাবন ও নেতৃত্বমূলক উপস্থাপনার জন্য বিচারকমণ্ডলী প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশের প্রতিনিধি সম্মানিত হন সম্মেলনের অন্যতম সর্বোচ্চ স্বীকৃতি “ফিউসার সাস্টেইনেবল চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ডে।”
এই অর্জন কেবল একটি ব্যক্তিগত স্বীকৃতি নয়—বরং বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের তরুণদের টেকসই চিন্তা, নেতৃত্ব এবং বৈশ্বিক ভবিষ্যৎ নির্মাণে সক্রিয় ভূমিকার একটি গর্বিত প্রতিচ্ছবি।
এ বিষয়ে অনুভূতি ব্যক্ত করে শেখ আব্দুল্লাহ আল সাইদ বলেন, আমার অভিজ্ঞতা আমাকে শিখিয়েছে—পরিবর্তনের জন্য বয়স নয়, দরকার দৃষ্টি ও উদ্যোগ। আর সেই দৃষ্টি যদি বৈশ্বিক হয়, তাহলে আমরা স্থানীয় সমস্যারও স্থায়ী সমাধান খুঁজে পেতে পারি। এই সম্মান, এই মঞ্চ, এই অভিজ্ঞতা—আমাকে দায়বদ্ধ করেছে। আমি কাজ করে যেতে চাই শিক্ষা, নেতৃত্ব এবং টেকসই উন্নয়নের পথে; দেশের তরুণদের জন্য একটি অনুপ্রেরণার আলো হয়ে। যেখানে সাহস আছে, সেখানে পথ আছে। আর বাংলাদেশের তরুণদের সাহস সীমাহীন।