জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে মুখে লাল কাপড় বেঁধে জুলাই র্যালি ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শহীদ পরিবারদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে দশটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার থেকে মুখে লাল কাপড় বেঁধে ‘রেড জুলাই’ র্যালি শুরু হয়ে ‘অদম্য-২৪’ স্মৃতিস্তম্ভ পাদদেশে গিয়ে শেষ হয়। র্যালিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সাভার এলাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। এরপর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শহিদ পরিবারদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মাহফুজার রহমান বলেন, গত ১৫ বছরে শুধু কথা বলার জন্য অনেককে নিষ্পেষিত হতে হয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান আমাদের সেই শোষণ থেকে মুক্তি দিয়েছে। এই অভ্যুত্থানকে ধারণ করতে না পারলে এবং শহিদ ও আহতদের রক্তের ঋণ মনে রাখতে না পারলে, তাদের প্রতি অনেক বড় অবিচার করা হবে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহিদ ও আহতদের বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন স্থাপনা ও সড়ক নামকরণের মাধ্যমে স্মরণে রাখার উদ্যোগ নেওয়া হবে। উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) ২০২৪ সালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এছাড়া সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন ও ‘৩৬ জুলাই স্বৈরাচার হাসিনার পতন দিবস উদযাপন-২০২৫’ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলমের সভাপতিত্বে বেলা সাড়ে এগারোটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনের সেমিনার কক্ষে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আবদুর রব, জীববিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ মাফরুহী সাত্তার, প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. রাশিদুল আলম, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. ছালেহ আহাম্মদ খানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহিদ পরিবারদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এসময় শহিদ পরিবারের সদস্যরা স্মৃতিচারণ করেন এবং তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী এলাকার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও স্কুলের প্রতিনিধিগণ স্মৃতিচারণ করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সাভার অঞ্চলের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রতিনিধিদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে সাভার অঞ্চলের শহিদদের নিয়ে একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।