বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের উদ্দেশ্য হলো সারা বিশ্বে স্বাস্থ্য সচেতনতার প্রসার এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার সুষম বিতরণ নিশ্চিত করা। পাশাপাশি, বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে আলোচনা এবং সমাধানের পথ অনুসন্ধান করাও এই দিবসের অন্যতম লক্ষ্য। WHO প্রতিবছর একটি বিশেষ স্বাস্থ্য ইস্যু বেছে নেয়, যা বিশ্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং সারা পৃথিবীজুড়ে এদিনটি পালিত হয়। স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ে পাঠকদের জন্য গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং সংবাদকর্মীর শামিম রেজা তুলে ধরেছেন গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতামত।
অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা
স্বাস্থ্য ব্যবস্থার এই বিশাল কাঠামোর এক নীরব অথচ অপরিহার্য স্তম্ভ হলেন ফার্মাসিস্টরা। চিকিৎসক ও রোগীর মাঝখানে একটি সেতুবন্ধন হিসেবে তারা কাজ করেন, যা অনেক সময় আমাদের চোখে পড়ে না, কিন্তু প্রভাব ফেলে গভীরভাবে। এক “নীরব যোদ্ধা” ।বর্তমান সময়ে অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা। এই ক্ষেত্রে ফার্মাসিস্টরা গুরুত্বপূর্ণ গাইডলাইন প্রদান করেন, যাতে রোগীরা অপ্রয়োজনীয়ভাবে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার না করেন। যা অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স কমাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বাংলাদেশের মতো দেশে, যেখানে অনেক জায়গায় চিকিৎসক সহজলভ্য নয়, সেখানে ফার্মাসিস্টরাই প্রথম ভরসা। তারা প্রাথমিক চিকিৎসা দেন, সঠিক ওষুধ বেছে নিতে সাহায্য করেন এবং প্রয়োজনে রোগীকে চিকিৎসকের কাছে পাঠান।
একটি সুস্থ সমাজ গড়তে ফার্মাসিস্টদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব।
সাদিয়া ইসলাম মুনা, ফার্মেসী বিভাগ, গণ বিশ্ববিদ্যালয়
শুধু শারীরিক সুস্থতাই নয়, পাশাপাশি মানসিক প্রশান্তিও খুবই জরুরি
আমরা শিক্ষার্থীরা প্রায়ই পড়াশোনা আর ব্যস্ততার অজুহাতে নিজের স্বাস্থ্যের দিকে খেয়াল রাখি না।অথচ সুস্থ জীবন গঠনের প্রথম ধাপ হলো নিজের দৈনন্দিন অভ্যাসের পরিবর্তন। নিয়মিত ব্যায়াম, পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম এই তিনটি বিষয় সুস্বাস্থ্যের জন্য অতীব জরুরি।
শুধু শারীরিক সুস্থতাই নয়, পাশাপাশি মানসিক প্রশান্তিও খুবই জরুরি।তাই মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়ার জন্য পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে ইতিবাচক সময় কাটানো এবং সৃষ্টিকর্তার অনুগত করা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি। কারণ সুস্থ শরীর, সুস্থ মন এবং সুস্থ পরিবেশ এসবের সম্মিলনেই ত গড়ে ওঠবে একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ।মারুফা জাহান মিথিলা, বায়োকেমিস্ট্রি এন্ড মলিকিউলার বায়োলজি বিভাগ,গণ বিশ্ববিদ্যালয়
ভেটেরিনারিয়ানরা শুধুমাত্র পশু চিকিৎসক নন, বরং তারা জনস্বাস্থ্য রক্ষার প্রথম সারির যোদ্ধা
জনস্বাস্থ্য রক্ষায় প্রাণী চিকিৎসকদের ভূমিকা অপরিসীম । তাঁরা শুধু পশুর চিকিৎসাই করেন না, তারা প্রাণী, মানুষ ও পরিবেশের স্বাস্থ্যের মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক নিশ্চিত করতে কাজ করেন । তারা মূলত প্রাণীর চিকিৎসা, জুনটিক রোগ নিমন্ত্রণ, নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করেন। তাঁদের কর্মতৎপরতা সরাসরি মানব স্বাস্থ্যের ঝুঁকি কমায় এবং রোগ প্রতিরোধে সহায়ক ভূমিকা পালন করে ।
ভেটেরিনারিয়ানরা শুধুমাত্র পশু চিকিৎসক নন, বরং তারা জনস্বাস্থ্য রক্ষার প্রথম সারির যোদ্ধা । খাদ্য নিরাপত্তা ও সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে তাদের নিরলস অবদান সুস্থ সমাজ বিনির্মাণে অপরিহার্য ।
মূলত রোগ নিরাময় ও পরিবেশগত সুরক্ষা নিশ্চিত করার মাধ্যমে রসায়নবিদরা সুস্থ সমাজ গড়ার নেপথ্য কারিগর হিসেবে কাজ করে যান।
আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রতিটি স্তরে রসায়নবিদদের অবদান অপরিহার্য। তারা মূলত নতুন ওষুধ ও ভ্যাকসিনের ফর্মুলা উদ্ভাবন করেন এবং মলিকুলার মডেলিংয়ের মাধ্যমে এর নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করেন। ল্যাবরেটরিতে রক্ত, হরমোন ও এনজাইমের রাসায়নিক বিশ্লেষণ করে সঠিক রোগ শনাক্তকরণেও তাদের ভূমিকা সরাসরি। এছাড়া খাদ্য ও পানির গুণগত মান এবং বিষাক্ত উপাদানের উপস্থিতি পরীক্ষা করে তারা জনস্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেন। মূলত রোগ নিরাময় ও পরিবেশগত সুরক্ষা নিশ্চিত করার মাধ্যমে রসায়নবিদরা সুস্থ সমাজ গড়ার নেপথ্য কারিগর হিসেবে কাজ করে যান।
আকতান রশিদ, রসায়ন বিভাগ, গণ বিশ্ববিদ্যালয়
শামীম রেজা / টি এইচ এস