জাকসুকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ব্যবহারের অভিযোগে ‘গণভোট অস্বীকার ও অধ্যাদেশ’ শীর্ষক সেমিনার বাতিলের দাবি

Site Favicon প্রকাশিত: ০৮ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:৩১ আপডেট: ০৮ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:৫৪
A+A-
Reset

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদকে (জাকসু) ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও জাকসু সভাপতি বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে ‘সচেতন শিক্ষার্থীবৃন্দ’। বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর এই স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

​স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, জাকসু শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার ও ন্যায়বিচার রক্ষার সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান হলেও সম্প্রতি একে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের অপচেষ্টা চলছে। এসব কর্মকাণ্ড জাকসুর মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করার পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীদের আস্থার ওপর আঘাত হানছে।

​এ বিষয়ে জাবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মোহাম্মদ রুবেল কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “জাকসু নির্বাচনের পর থেকেই আমরা দেখছি একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী একে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে। আগামীকাল তারা ‘সংসদীয় স্বৈরতন্ত্রে প্রবেশ এবং সংকটের পথে দেশ’ শিরোনামে একটি সেমিনার আয়োজন করেছে। জনগণের নির্বাচিত সরকারকে স্বৈরাচার বলা এবং সুন্দরভাবে দেশ পরিচালনার সময়ে ‘সংকট’ শব্দটি ব্যবহার করা স্পষ্টতই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ছাত্র শিবিরের এজেন্ডা বাস্তবায়নের নামান্তর।”

​স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা তিনটি দাবি উত্থাপন করেন:

১. জাকসুর নাম, প্যাড ও প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ব্যক্তিগত বা দলীয় রাজনৈতিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ করা।

২. ইতিপূর্বে ঘটা এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া।

৩. জাকসুর সকল কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা।

​বিবৃতিতে ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ রুবেল আরও যোগ করেন, “আমরা জাকসুকে কোনো বিশেষ রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের প্ল্যাটফর্ম হতে দেবো না। অবিলম্বে এই ষড়যন্ত্রমূলক প্রোগ্রাম বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।”

​স্মারকলিপিতে সচেতন শিক্ষার্থীদের পক্ষে স্বাক্ষর করেন ৪৯তম ব্যাচের ইকরা, ৪৯তম ব্যাচের রায়হান ও রুবেল, ৫১তম ব্যাচের শরিফুল ও আলিফ, ৫৩তম ব্যাচের সাদিয়া এবং ৫০তম ব্যাচের সৌরভসহ আরও অনেকে। শিক্ষার্থীরা আশা প্রকাশ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে জাকসুর নিরপেক্ষতা ও শিক্ষার্থীদের আস্থা পুনরুদ্ধার করবে।

আপনার পছন্দ হতে পারে