জাবিসাসের ৫৫ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন, এক টেবিলে সকল ছাত্রসংগঠনের নেতারা

Site Favicon প্রকাশিত: ০৪ এপ্রিল ২০২৬ ১৫:১৮
A+A-
Reset

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (জাবিসাস) পথচলা কেবল অর্ধশতকের নয়, এটি  একটি দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস। আল বেরুনী হলের একটি ক্যান্টিনের কোণে বসে ১৯৭২ সালের ৩ এপ্রিল যে সাতজন তরুণ স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই স্বপ্ন আজ ৫৫ বছরে পা রেখে ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার এক অদম্য প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।

​গতকাল বৃহস্পতিবার ৫৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেক কেটে দিনটি উদযাপন করেন জাবিসাসের বর্তমান ও সাবেক সদস্যরা। এই দীর্ঘ পথচলায় ‘সত্য যত তিক্তই হোক, তা বলতে হবে দেশ ও জাতির কল্যাণে’—এই মন্ত্রকে সামনে রেখে জাবিসাস হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাসের অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে এক বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে ফোনালাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলেন, জাবিসাস দীর্ঘ সময় ধরে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে যে সাহসী ভূমিকা রেখেছে, তা প্রশংসার দাবি রাখে। তিনি বলেন, “জাবিসাস কেবল একটি সংগঠন নয়, এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্পণ। আমি প্রত্যাশা করি, আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এবং ক্যাম্পাসকে একটি আধুনিক ও গণতান্ত্রিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে জাবিসাস তাদের বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার ধারা অব্যাহত রাখবে।”

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তারা জাবিসাসের নিরপেক্ষতার ওপর জোর দিয়ে বলেন, ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা যেন সব সময় শিক্ষার্থীদের স্বার্থের পক্ষে থাকে। উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর, জাকসুর ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু, জাকসুর সাধারণ সম্পাদক ও ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মাজহারুল ইসলাম, ছাত্রশক্তির সভাপতি জিয়া উদ্দিন আয়ান এবং ছাত্র ইউনিয়নের (একাংশ) সভাপতি জাহিদুল ইসলাম ইমন। নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, জাবিসাস সামনের দিনগুলোতে সব দলের মতামতের প্রতি সম্মান রেখে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করবে।

জাবিসাসের সভাপতি মাহ আলম তার বক্তব্যে সংগঠনের ইতিহাসের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “১৯৭২ সালে পরিসংখ্যান বিভাগের রাশেদ আহমেদ আলী ও অর্থনীতি বিভাগের আবুল কাসেম যে বীজ বপন করেছিলেন, তা আজ মহীরুহ। আমাদের পথ কখনোই মসৃণ ছিল না। সত্য প্রকাশের কারণে অনেক সময় আমাদের রোষানলের শিকার হতে হয়েছে। ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময়ও জাবিসাসের সদস্যরা কোনো রক্তচক্ষুকে ভয় না পেয়ে পেশাদারিত্বের সাথে সংবাদ পরিবেশন করেছেন।”

​উল্লেখ্য, ১৯৭২ সালে প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও তৎকালীন উপাচার্য জিল্লুর রহমান সিদ্দিকীর সহযোগিতায় জাবিসাস তার শক্ত অবস্থান তৈরি করে। ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নবিরোধী আন্দোলনসহ ক্যাম্পাসের প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে জাবিসাস শিক্ষার্থীদের পক্ষে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় নতুন প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করতে জাবিসাস প্রতিবছর সেরা অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা পুরস্কার প্রদান করে আসছে।

​৫৫ বছরের এই মাইলফলক উদযাপনে জাবিসাস কেবল অতীতের গৌরব রোমন্থন করছে না, বরং আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন উদ্যমে কাজ করার প্রত্যয় গ্রহণ করেছে।

আপনার পছন্দ হতে পারে