নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর বাজার থেকে পশ্চিমে একটু এগুলেই চোখে পড়ে প্রায় ৩০০ বছর পুরনো গোপালপুর চৌধুরী বাড়ি মসজিদ। ঐতিহ্যবাহী এ মসজিদের পশ্চিমে চৌধুরী বাড়ি, সামনে শান বাঁধানো পুকুর।
হিজরি ১৩৩৯ সনে এ মসজিদটি দ্বিতীয় সংস্করণ করা হয়েছে। মসজিদটিতে মার্বেল পাথরে সুশোভিত মোট তিনটি গম্বুজ রয়েছে। মাঝের গম্বুজটি সামান্য বড়ো। মসজিদে প্রবেশের জন্য ধনুকাকৃতির তিনটি দরজা রয়েছে। মাঝের দরজার উপরে মসজিদের দ্বিতীয় সংস্করণের তারিখ আর অন্য দরজা গুলোর উপরে মার্বেল পাথরে কালেমা লেখা রয়েছে। মসজিদের দেয়াল জুড়ে কারুকার্য খচিত। মসজিদের ভিতরে তিন কাতারে নামাজ পড়ার ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়াও বারান্দায় নামাজের সুযোগ রয়েছে।
মসজিদটির দক্ষিণ দিকে প্রায় ৪০০ বছর পূর্বে নির্মিত মসজিদ রয়েছে। জানা যায়, চৌধুরীদের দম্ভের বলি হয়ে মসজিদটি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে আছে। গোপালপুরে চৌধুরীদের বংশের দুই ধারা বিদ্যমান ছিল। প্রথম মসজিদটি একটি ধারার বংশধরের জমির উপর নির্মিত হয়েছিল। কিন্তু অন্য ধারার বংশধররা নিজের জায়গা থাকতে অন্যের জায়গার উপর দিয়ে যাতায়াত করে নামাজ পড়তে রাজি ছিল না। এই বংশীয় অহমিকার জেরে এক পর্যায়ে প্রথম মসজিদটি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে উভয় গোষ্ঠীর জায়গার মাঝে গোপালপুর চৌধুরী বাড়ি মসজিদ নির্মিত হয়েছে। তখন মসজিদে কোন স্থায়ী মিম্বার ছিল না। জুমার নামাজে অস্থায়ী কাঠের মিম্বার নিয়ে এসে খুতবা দেওয়া হতো। মিম্বরে বসে, সকলের সামনে কেউ চৌধুরীদের ওয়াজ- নসিহ্ করবে এটি তাদের পছন্দ হতো না। কিন্তু বর্তমানে তা আর দেখা যায় না।
মসজিদের পিছনে চৌধুরী বাড়ির কয়েকটি প্রাচীন পরিত্যক্ত দালান রয়েছে। ভবনগুলো ট্যালি ইটের তৈরি। প্রায় ৩৫০ বছরের পুরনো এসব ভবন। বর্তমানে দালানগুলো নতুন করে সংস্কার কাজ চলমান। চৌধুরী বাড়ির সামনে দুইটি বৈঠকখানা আছে। যেখান থেকে চৌধুরীরা তাদের জমিদারি কার্যক্রম পরিচালনা করতো।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তৎকালীন সময়ে চৌধুরী বাড়ি থেকে পূর্বদিকে কোন ধরনের স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ করতে দেওয়া হতো না। যাতে তাদের বৈঠকখানায় বসে পুরো এলাকা নজরদারি করা যেত। এছাড়া স্থানীয় লোকজন পড়াশোনা করুক এটি তারা কখনো চাইতো না। চৌধুরীদের বংশধর মরহুম বজলুল হায়দার চৌধুরী একটি স্কুল প্রতিষ্ঠান করলে, অন্য বংশধররা রাতের আঁধারে স্কুলটি পুড়িয়ে দেয়। কিন্তু কালের পালাক্রমে এখন বজলুল হায়দার চৌধুরীর প্রতিষ্ঠিত সেই বিদ্যালয়টি বর্তমানে গোপালপুর আলী হায়দার উচ্চ বিদ্যালয় নামে পরিচালিত হচ্ছে।
প্রতিদিন চৌধুরী বাড়ি দেখতে বিভিন্ন স্থান থেকে ভিড় জমান। ঘুরতে আসা শান্ত বলেন, চৌধুরী বাড়িটি আমার অনেক পছন্দের, মাঝে মধ্যে এখানে ঘুরতে আসি। বাড়িতে মেহমান আসলে এখানে ঘুরতে নিয়ে আসি।
চৌধুরী বাড়ি যেতে হলে ঢাকা থেকে সরাসরি বেগমগঞ্জ চৌরাস্তা যেতে হবে। চৌরাস্তা থেকে যে কোন লোকাল বাস কিংবা সিএনজিতে ১০ টাকা করে বাংলাবাজারে আসতে হবে। সেখান থেকে সিএনজিতে মাত্র ৩০ টাকায় গোপালপুর বাজারে এসে ২০০ গজ পশ্চিমে গেলেই এই চৌধুরী বাড়ি চোখে পড়বে।
মাওয়াজুর রহমান/ টি এইচ এস