চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) নতুন উপাচার্য (ভিসি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন শিক্ষাবিদ, গবেষক ও বিজ্ঞানী প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষা, গবেষণা ও একাডেমিক নেতৃত্বে অসামান্য অবদান রেখে তিনি দেশের উচ্চশিক্ষা অঙ্গনে এক উজ্জ্বল নাম হিসেবে পরিচিত।
চবির জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও অধ্যাপক ড.আল-ফোরকান তাঁর বর্ণাঢ্য শিক্ষাজীবন শুরু করেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানি বিভাগ থেকে। তিনি প্রথম শ্রেণিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর ১৯৯৩ সালে প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। একনিষ্ঠ অধ্যবসায়, গবেষণার প্রতি গভীর অনুরাগ এবং একাডেমিক দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে ২০০৬ সালে তিনি অধ্যাপক পদে উন্নীত হন।
গবেষণাক্ষেত্রেও রয়েছে তাঁর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। তিনি যুক্তরাজ্যের নটিংহ্যাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইন্ডিকা ধানের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে কানাডার ইউনিভার্সিটি অব আলবার্টা ও এগ্রিকালচারাল রিসার্চ কাউন্সিলে তেলবীজের গুণগত মান উন্নয়ন বিষয়ে পোস্ট-ডক্টরাল গবেষণা সম্পন্ন করেন। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, ডেভিসে ভিজিটিং প্রফেসর ও গবেষক হিসেবে কাজ করে আন্তর্জাতিক গবেষণা অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
চবির আধুনিক জীববিজ্ঞান গবেষণার বিকাশে তাঁর অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ২০০৪ সালে তাঁর উদ্যোগেই প্রতিষ্ঠিত হয় জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগ, যা বর্তমানে দেশের অন্যতম শীর্ষ বিজ্ঞানভিত্তিক বিভাগ হিসেবে স্বীকৃত। তাঁর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে প্রতিষ্ঠিত Functional Genomics and Proteomics Laboratory (FGPL) এবং আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন ক্লাইমেট কন্ট্রোলড গ্রিনহাউস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বিশ্বব্যাপী মহামারি করোনাকালেও তিনি ছিলেন অগ্রভাগে। কোভিড-১৯ শনাক্তকরণ কার্যক্রমে সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করে তাঁর ল্যাব ও গবেষক দল এক লক্ষেরও বেশি নমুনা পরীক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে, যা জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে।
৩১ বছরের দীর্ঘ শিক্ষকতা ও গবেষণা জীবনে ড. আল-ফোরকানের ৫১টি গবেষণা প্রবন্ধ আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে (h-index: ১২)। তিনি দেশ-বিদেশের একাধিক স্বনামধন্য জার্নালের সম্পাদকীয় বোর্ডের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি USDA, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় ৫০টিরও বেশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রকল্পে অনুদান লাভ করেছেন।
একজন নিবেদিত গবেষণা-পরামর্শক হিসেবে তিনি বহু এমএস, এমফিল ও পোস্ট-ডক্টরাল গবেষককে তত্ত্বাবধান করেছেন। প্রশাসনিক দক্ষতার পরিচয় দিয়ে তিনি বিভাগীয় চেয়ারম্যান, হল প্রভোস্টসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও সফলতার সঙ্গে পালন করেছেন।
শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকানের নেতৃত্বে চবির নতুন এক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।