জবিতে ছাত্রদল কর্তৃক শিক্ষক হেনস্তা, নীরব ভূমিকায় শিক্ষক সমিতি

Site Favicon প্রকাশিত: ১৯ মার্চ ২০২৬ ১৯:৫২
A+A-
Reset

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) নবনিযুক্ত উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে দুই শিক্ষককে লাঞ্ছিত ও হেনস্থা করার অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের একাধিক নেতার বিরুদ্ধে। তবে ঘটনাটির পরও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না আসায় সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

জানা যায়, গত মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সন্ধ্যা প্রায় সাতটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শিক্ষকরা হলেন গণিত বিভাগের অধ্যাপক আবু হানিফ এবং সমাজকর্ম বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. শরীফুল ইসলাম।

ভুক্তভোগী শিক্ষকদের অভিযোগ, সন্ধ্যা প্রায় সাতটার দিকে নবনিযুক্ত উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠান উপলক্ষে ক্যাম্পাসে উপস্থিত হলে শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল আমার গতিরোধ করেন এবং অপ্রীতিকরভাবে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ছাত্রদল নেতা সুমন সরদার, জাফর সহ ২০-২৫ জনের মত নেতাকর্মী। একই সঙ্গে তারা মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার হুমকি দেন।

এদিকে এ ঘটনার দুই দিন পেরোলেও আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। শিক্ষক সমিতির এ নিরবতা সমালোচনার জন্ম দিয়েছে ক্যাম্পাস মহলে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বলেন, শিক্ষক সমিতি মূলত শিক্ষকদের সংগঠন হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক বিষয়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী সবার স্বার্থে তাদের সোচ্চার থাকা উচিত। সে জায়গা থেকে দুইজন শিক্ষকের ওপর হামলার মতো ঘটনার পরও তাদের নীরব থাকা হতাশাজনক।

তিনি আরো বলেন, পূর্বে কোন সময় শিক্ষক সমিতির এমন নীরবতা দেখা যায়নি। কীসের বা কাদের চাপে শিক্ষক সমিতি মুখ খুলছে না, তা বোধগম্য নয়। শিক্ষক সমিতি রাজনৈতিক প্রভাবের উর্ধ্বে উঠে কাজ করতে না পারে, তাহলে শিক্ষকরা কার উপর আস্থা রাখবে?

এ বিষয়ে জকসুর এজিএস মাসুদ রানা বলেন, ‘জবি ছাত্রদল কতৃক শিক্ষক লাঞ্ছনার মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনায় শিক্ষক সমিতির নীরবতা অত্যন্ত লজ্জা ও হতাশাজনক।এ ধরনের নীরবতা অন্যায়ের প্রতি পরোক্ষ সমর্থন হিসেবে বিবেচিত হয়। একজন সহকর্মীর পাশে না দাঁড়িয়ে শিক্ষক সমিতি তাদের হীন মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং শিক্ষক সমিতির প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি অবিলম্বে স্পষ্ট ও কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে।’

তবে বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক। তিনি বলেন, কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ না থাকায় বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নেওয়া যায়নি। এছাড়া ঈদের ছুটি এবং ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বসার সুযোগও সীমিত ছিল। তবে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে এবং বিষয়টি সমিতির নজরে রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং উভয় পক্ষকে নিয়ে আলোচনা ও প্রয়োজনীয় তদন্ত করা হবে। এ বিষয়ে শিগগিরই শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা বিবৃতি দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে শিক্ষক সমিতির বর্তমান সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। শিক্ষক হেনস্থার এ ঘটনায় তিনি বলেন, হানিফ আমার কাছে এসেছিল। আমি শুনেছি এই ধরণের একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। এটি কোনভাবে কাম্য নয়। আমরা সবাই মিলে মিলেমিশে থাকতে চাই।

আপনার পছন্দ হতে পারে