ইফতার শব্দটা মাথায় এলেই চোখের পর্দায় ভেসে ওঠে সেই ছোটবেলার সাজানো পরিবার, মায়ের হাতের রান্না, ভাই-বোনদের হট্টগোল আর মুয়াজ্জিনের আজানের প্রতীক্ষা। ক্যাম্পাস জীবন শুরু হলে জীবনের অন্যতম কঠিন বাস্তব হয়ে দাঁড়ায় পরিবার ছেড়ে দূরে থাকা। তবে শূন্যস্থান পছন্দ না করা প্রকৃতি সেখানেও মিলিয়ে দেয় এক অলিখিত বন্ধন। সেই বন্ধন নিয়েই আমাদের বাকি গল্পের প্রয়াস।
গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যাপিত জীবনটাও ঠিক তেমন। রমজানে পরিবার থেকে দূরে থাকলেও ক্যাম্পাসে প্রিয় বন্ধু, স্বজন আর শিক্ষকদের নিয়ে ইফতারের আয়োজন যেন সেই বিচ্ছেদের কষ্ট মুছে দেওয়ার এক সার্থক চেষ্টা। গত রবিবার (৮ মার্চ) তেমনি এক গল্পের উপহার দেয় দেশের প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি ‘গবিসাস’।
নবীন-প্রবীণদের মিলনমেলা
সাধারণত ইফতারের আয়োজনে মূল আকর্ষণ থাকে হরেক পদের মুখরোচক খাবার। তবে গবিসাসের এই আয়োজনে মুখ্য বিষয় ছিল শিকড়ের টানে ফিরে আসা নবীন-প্রবীণদের এক প্রাণের মেলা। প্রিয় ক্যাম্পাসের এক ডাকে সাড়া দিয়ে সকাল থেকেই একে একে ছুটে আসতে শুরু করেন সাবেক সদস্যরা। দুপুর গড়াতেই সাংবাদিক সমিতির অফিস থেকে শুরু করে খেলার মাঠ—সবখানেই যেন বয়ে যায় স্মৃতির হাওয়া। একদিকে চলছে রান্নার তুমুল ব্যস্ততা, অন্যদিকে হাস্যোজ্জ্বল মুখে চলছে পুরনো দিনের স্মৃতিচারণ।
এক দৃশ্যে সব পরিচয়
সূর্য যখন পশ্চিম আকাশে ঢলতে শুরু করেছে, তখন ক্যাম্পাসে দেখা গেল এক অনাবিল দৃশ্য। রাজনৈতিক, সাংগঠনিক কিংবা পেশাগত পরিচয় ছাপিয়ে সাবেক শিক্ষার্থীদের এক বিশাল অংশ তখন মাঠের মধ্যমণি। সব ভেদাভেদ ভুলে একে অপরের সাথে হাত মেলানো আর সেই পরিচিত প্রশান্তির হাসি যেন বলে দিচ্ছিল—এ এক অন্যরকম পুনর্মিলনী। দেখে মনে হচ্ছিল, অনেকগুলো ফুল যেন একই বৃন্তে ফুটে উঠেছে।
মাঠের আড্ডায় আগামীর স্বপ্ন
আজানের ঠিক আগমুহূর্তে প্রিয় ক্যাম্পাসের খেলার মাঠে মাটিতেই সারিবদ্ধ হয়ে বসে পড়েন সবাই। ইফতার ও নামাজ শেষে শুরু হয় গবিসাসের ঐতিহ্যবাহী ‘চায়ের আড্ডা’। কোনো আড়ম্বর নয়, বরং অত্যন্ত সহজ-সরল পরিবেশে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা আর বন্ধুসুলভ খুনসুটিতে মেতে ওঠেন সবাই।
আলাপনে অংশ নেন ঢাকা জেলা (উত্তর) ছাত্রদলের সভাপতি তমিজ উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ ইকবাল, গণ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (গকসু) সাবেক ভিপি জুয়েল রানা, সাংবাদিক নেতা রোকনুজ্জামান মনি ও রনি খাঁ এবং গবিসাসের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আসিফ আল আজাদ। এছাড়াও গবিসাসের সাবেক-বর্তমান নেতৃবৃন্দসহ গকসুর বর্তমান ভিপি ইয়াসিন আল মৃদুল দেওয়ান, জিএস রায়হান খান এবং ক্যাম্পাসের অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের নেতৃস্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।
যৌথ অগ্রযাত্রার অঙ্গীকার
আড্ডার ফাঁকে প্রত্যেকেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে ক্যাম্পাসের উন্নয়নে একত্রে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। উপস্থিত শিক্ষকরাও শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিতে ফলপ্রসূ অবদান রাখতে সবাইকে আহ্বান জানান।
হাসি-গল্প আর স্মৃতির মেলায় এভাবেই রঙিন হয়ে ওঠে দিনটি। দিন শেষে পাখিদের মতো সবাই যার যার নীড়ে ফিরে গেলেও স্মৃতিগুলো থেকে যায় অমলিন। এই তো আমাদের প্রাণের ক্যাম্পাস, আর এই গল্পগুলোই আমাদের।
শামিম রেজা/ টিএইচএস