ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে দলীয় মনোনয়নের দৌড়ে আলোচনায় রয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক ও সাবেক কাউন্সিলর ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা, দলের জন্য ত্যাগ এবং মিরপুর এলাকার রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত মুখ হিসেবে তিনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন।
ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি সাবেক ছাত্রদল নেতা ও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৮নং ওয়ার্ডের প্রয়াত কাউন্সিলর সাইদুর রহমান নিউটনের সহধর্মিণী এবং বিএনপি নেতা মরহুম নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টুর বোন।
তার রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয় বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজে ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী হিসেবে। পরবর্তীকালে তিনি কলেজ ছাত্র সংসদের এজিএস নির্বাচিত হন। স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করা এই নেত্রী বর্তমানে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করছেন।
পারিবারিক সূত্র ও দলীয় নেতা-কর্মীরা জানান, মিষ্টির স্বামী সাইদুর রহমান নিউটন কাউন্সিলর থাকা অবস্থায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হওয়ার পর তিনি ওই ওয়ার্ডে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। সে সময় নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন কাজ করে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেন। আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় থাকায় গত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে তাকে অন্তত ২০টি রাজনৈতিক মামলার শিকার হতে হয়েছে।
দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশার বিষয়ে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি বলেন, আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়েই আমার বেড়ে ওঠা। ছাত্রজীবন থেকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে রাজনীতি করছি। দলের নীতি ও আদর্শ থেকে কখনোই বিচ্যুত হইনি। ২০টি ষড়যন্ত্রমূলক মামলার শিকার হয়েও রাজপথ ছাড়িনি।
সংরক্ষিত আসনের বিষয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আমাদের নেতা তারেক রহমান ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মূল্যায়ন করছেন। বিএনপি পরিবারের সন্তান হিসেবে দলের দুঃসময়ে রাজপথে থেকেছি। আমি আশা করি, সংরক্ষিত নারী আসনে দল যাদের অতীত ত্যাগ আছে তাদের মূল্যায়ন করবে। সে ক্ষেত্রে আমি আশাবাদী দল আমাকে মনোনীত করবে।
মিরপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত এই নেত্রী মনে করেন, সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেলে তিনি জাতীয় পর্যায়ে দলের হয়ে জোরালো ভূমিকা রাখতে পারবেন।