ছাত্র রাজনীতির পটপরিবর্তনের পর এবার ভিন্ন কৌশলে ক্যাম্পাসে ফেরার চেষ্টা করছে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) ‘ছাত্র অধিকার পরিষদ’ নাম ব্যবহার করে একটি গোপন মেসেঞ্জার গ্রুপের মাধ্যমে ছাত্রলীগের সক্রিয় উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। সম্প্রতি ওই গ্রুপের ৩৬টি স্ক্রিনশট প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ‘ছাত্র অধিকার পরিষদ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে পরিচালিত ওই মেসেঞ্জার গ্রুপটিতে থাকা ১৫ জন সদস্যের মধ্যে অন্তত ৮ জনই সরাসরি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। গ্রুপটিতে সদস্যদের বিভিন্ন সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক দিক-নির্দেশনা দিতে দেখা গেছে বিতর্কিত ছাত্রলীগ নেতা মইদুর রহমান বাকীকে।
ফাঁস হওয়া স্ক্রিনশটে বাকীকে বাকীকে বলতে দেখা যায়, আমাগো ছাড়া অরা কিচ্ছু করতে পারবেনা। আমাদের কাজ আমরা গুছাতে থাকি। এবং সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন ব্যাচ থেকে কতজন কমিটিতে নিতে হবে সেসব বিষয় নির্দেশ দেন তার অনুসারীদের।
গ্রুপটিতে সক্রিয় থাকা মইদুর রহমান বাকী সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীমের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে গুরুতর সব অভিযোগ রয়েছে, ২০১৭ সালে ববিতে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের দায়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত হন বাকী। ২০২২ সালে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে, যেখানে ৭ জন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছিলেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নিষিদ্ধ হওয়ার পর ছাত্রলীগ এখন নিজেদের পরিচয় গোপন করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করছে এবং পুনরায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
এ বিষয়ে ববিতে ছাত্র অধিকার পরিষদের সংগঠক এম এস রহমান বলেন, “সন্ত্রাসী মইদুর রহমান বাকী ও তার অনুসারীরা আমাদের কমিটিতে জায়গা পাওয়ার জন্য সমঝোতার প্রস্তাব দিয়েছিল। তাদের সেই অনৈতিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় তারা আমার বিরুদ্ধে বানোয়াট অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমি গত ৮ মার্চ থেকে ঢাকায় আছি। নিষিদ্ধ সংগঠনের কেউ কখনোই ছাত্র অধিকার পরিষদে পদ পেতে পারে না। তারা মূলত ভিপি নুরের জনপ্রিয়তা ও ক্ষমতাকে অপব্যবহার করার কূটকৌশল আঁটছে।”
এবিষয়ে জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম রাশেদ বলেন, আমরা শুনেছি। ছাত্রলীগ কর্মীরা একটা গ্রুপ খুলে কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করছে। তবে আমাদের সাথে তাদের কোনো যোগসাজশ নাই। সবকিছু যাচাই-বাছাই করে তারপর আমরা কমিটি দিবো। এবিষয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম এস রহমান খুব শীঘ্রই সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত আপনাদের বলবে।