বাংলাদেশের খবরের সাংবাদিককে প্রকাশ্যে মারধর করলেন ছাত্র দলনেতা জয়

Site Favicon প্রকাশিত: ০৫ মার্চ ২০২৬ ১৯:৫১
A+A-
Reset

বাংলাদেলের খবরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি জান্নাতুন নাইমকে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের উপস্থিতিতে মারধর করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয়তাবাদি হিন্দু ফোরাম জবি শাখার সদস্য সচিব জয় সাহা।

‎আজ বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাশ ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

‎প্রতক্ষ্যদর্শী ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির নির্বাচন স্থগিত করার জন্য আগে থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দীন প্রধান নির্বাচন কমিশনকে চাপ দিতে থাকে।এরই পরিপ্রেক্ষিতে ছাত্রদলের সমর্থনে কয়েকজন সাংবাদিক নির্বাচন স্থগিত করার জন্য আবেদন করেন। নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে তাদের পক্ষ না নেওয়ায় বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ চালিয়ে যান তারা ।আজ দুপুরের দিকে ছাত্রদলের কয়েকশো নেতাকর্মী সাংবাদিক সমিতির কক্ষে ঢুকে পড়েন। এ সময় সেখানে থাকা সদস্যদের সঙ্গে তাদের বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য আরিফুল ইসলাম, ইয়াসিন সাইফ,মিজান উদ্দীন মাসুদ,নাজিদ,জিলন অনুসহ আরো অনেকে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালান। এতে জাতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত অন্তত ১০ জন সাংবাদিক আহত হন। একপর্যায়ে সবাই যখন অবকাশ ভবন থেকে নিচে নেমে ফিরে যাচ্ছিল হুট করে বাংলাদেশের খবরের সাংবাদিক নাঈমকে ঘুষি দিয়ে মারধর করেন জয় শাহা।

‎ভুক্তভোগী সাংবাদিক জান্নাতুন নাইম বলেন,যা হয়েছে তার কোনোকিছু ব্যাখ্যা করতে চাই না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে সবাই বের হচ্ছিলাম। প্রক্টরসহ ছাত্রদলের হিমেল, আরেফিন, রুমি, সুমন সরদার ও জাফর সবাই নিচে দাঁড়িয়ে ছিল। যখন গেট থেকে বের হয়েছি, তারপর সকলের সামনে আমাকে পেছন থেকে মাথায় আঘাত করলে আমি পড়ে যাই। সকলের সামনে জয় আমাকে মেরে চলে গেল, কেউ কিছু বললো না। আমি এরপর আমার ক্যাম্পাসে যাওয়া নিয়েও শংকিত।

‎অন্যান্য আহত সাংবাদিকরা হলেন, যুগান্তরের সাকেরুল ইসলাম, কালের কন্ঠের জুনায়েত শেখ, সময়ের আলোর মুশপিকুর রহমান ইমন সহ আরো অনেকে।

‎সাংবাদিকদের অভিযোগ, এ হামলার নেতৃত্ব দেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদি হাসান হিমেল, সদস্য সচিব সামছুল আরেফিন এবং যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সরদার ও জাফর আহমেদ।

‎জানা যায়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির নির্বাচন -২০২৬ এর একক নেতৃত্ব নিতে নিতে বিভিন্ন মাধ্যমে সাংবাদিকদের চাপ প্রদান করে ছাত্রদল। পরবর্তীতে ছাত্রদলের প্রস্তাবে রাজি না হওয়াতে জোর পূর্বক সমিতি দখল করতে আসেন ছাত্রদল।

‎সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ইমরান হুসাইন বলেন, গত ২ মার্চ সাংবাদিক সমিতির ২০২৬ সেশনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। নিয়মতান্ত্রিক উপায়েই আজ মনোনয়ন সংগ্রহের দিন ছিলো। কিন্তু গতকাল রাত থেকেই ছাত্রদলের বিভিন্ন মহল থেকে হুমকি দিয়ে দেওয়া হচ্ছিলো। আজ স্বাভাবিক ভাবে নির্বাচনের কার্যক্রম পরিচালনা হচ্ছিলো। এরই মধ্যে ছাত্রদলের শতাধিক নেতাকর্মীরা এসে সমিতিতে অবস্থানরত সাংবাদিকদের উপর হামলা চালায়। বর্তমানে আমাদের ১০ জন সাংবাদিক আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছে।

‎উল্লেখ্য, সাংবাদিক সমিতির নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয় গত ২ মার্চ। তফশিল অনুযায়ী আজ মনোনয়ন সংগ্রহ ও প্রত্যাহার এবং আগামী ৮ই মাচ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিলো।

আপনার পছন্দ হতে পারে