নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত ধর্ষণ ও সহিংসতার ঘটনায় দোষীদের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু)।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদমিনার প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনটি সঞ্চালনা করেন চাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক মোনায়েম শরীফ। এতে বক্তব্য রাখেন চাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সাঈদ বিন হাবিব, যোগাযোগ ও আবাসন বিষয়ক সম্পাদক ইসহাক ভূঁইয়া, ছাত্রীকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক নাহিমা আক্তার দ্বীপা, সহ-ছাত্রীকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস রিতা, সহ-দপ্তর সম্পাদক জান্নাতুল আদন নুসরাত এবং সোহরাওয়ার্দী হল ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি (ভিপি) নিয়ামতুল্লাহ ফারাবী।
দেশজুড়ে ধারাবাহিকভাবে সংঘটিত ধর্ষণ ও অন্যান্য মানবতাবিরোধী অপরাধ সমাজে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। এসব ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দাবি জানান তারা। একইসঙ্গে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর, দৃশ্যমান ও জবাবদিহিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি।
চাকসুর সহ-দপ্তর সম্পাদক জান্নাতুল আদন নুসরাত বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক নৃশংস ঘটনার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে, যা জাতিকে ব্যথিত ও উদ্বিগ্ন করছে। তিনি বলেন “প্রতিটি ঘটনার পর আমরা প্রতিবাদ জানাই, কিন্তু দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির নজির খুব কমই দেখতে পাই। এতে অপরাধীদের মধ্যে ভয় বা প্রতিরোধ সৃষ্টি হচ্ছে না।
ছাত্রীকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক নাহিমা আক্তার দ্বীপা বলেন, ভুক্তভোগীদের ব্যক্তিগত তথ্য ও ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অত্যন্ত অমানবিক ও অনৈতিক। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “অপরাধীর কোনো দলীয় পরিচয় থাকতে পারে না; সে কেবলই অপরাধী। অপরাধকে দলীয়করণ না করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।”
যোগাযোগ ও আবাসন বিষয়ক সম্পাদক ইসহাক ভূঁইয়া বলেন, একটি ন্যায়ভিত্তিক ও নিরাপদ রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রত্যাশা থেকেই শিক্ষার্থীরা সোচ্চার হয়েছেন। তিনি মনে করেন, কঠোর ও কার্যকর শাস্তির প্রয়োগের মাধ্যমেই অপরাধ দমনে দৃশ্যমান অগ্রগতি আনা সম্ভব।
চাকসুর জিএস সাঈদ বিন হাবিব বলেন, পবিত্র রমজান মাসে যখন দেশজুড়ে সংযম, নৈতিকতা ও মানবিকতার চর্চা হওয়ার কথা। সহিংসতা ও নিপীড়নের ঘটনা উদ্বেগজনক আখ্যা দিয়ে অতীতের বিভিন্ন ঘটনার উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক বা সামাজিক কোনো প্রেক্ষাপটেই সহিংসতা ও ধর্ষণের মতো অপরাধের স্থান নেই। “আমরা সংশ্লিষ্ট সকল ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই,”—বলেন তিনি।
মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ফজলে রাব্বি তৌহিদ, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক হারেজুল ইসলাম, ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট ও আন্তর্জাতিক সম্পাদক মেহেদী হাসান সোহান, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, সহ-যোগাযোগ ও আবাসন সম্পাদক ওবাইদুল সালমান, কার্যনির্বাহী সদস্য সোহানুর রহমানসহ বিভিন্ন হল সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা।
চাকসুর নেতাকর্মীরা জানান, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সক্রিয় ভূমিকা, দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিই হতে পারে সহিংসতা রোধের কার্যকর উপায়।
ইলিয়াছ/চবি