আশুলিয়ায় চাঁদা না দেওয়ায় চাকরিজীবীকে বেধড়ক মারধর, লুটের অভিযোগ ছাত্রদল নেতা শাওন তালুকদারের রিরুদ্ধে

by জেলা প্রতিনিধি
Site Favicon প্রকাশিত: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২১:৩৬
A+A-
Reset

ঢাকার অদূরে আশুলিয়ায় এক চাকরিজীবীর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে না দেওয়ার শত্রুতার জের ধরে বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ উঠেছে ঢাকা জেলা (উত্তর) ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাওন তালুকদারেরসহ ১৭ জনের রিরুদ্ধে। এ ঘটনা ভুক্তভোগী বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুবেল হাওলাদার।

আজ শুক্রবার দুপুরের দিকে আশুলিয়ার আউকপাড়া আদর্শগ্রাম মাজার গেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে ভুক্তভোগী মো. নুর ইসলাম প্রথমে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

ঢাকা জেলা (উত্তর) ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের দাবি, অভিযুক্ত শাওন তালুকদার ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ ইকবালের অনুসারী। বিগত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সরকারের সময় শাওন তালুকদার যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সে সময় থেকেই তার নামে মাদক সিন্ডিকেট, ভূমিদখল, চাঁদাবাজিসহ নানা ধরনের অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনায় আশুলিয়া থানায় অন্তত ১০ টি মামলা রয়েছে। যার মধ্যে ছয়টি মামলার কপি এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।

ভুক্তভোগী মোঃ নুর ইসলাম (৪৩) জানান, তিনি একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন। দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদল নেতা শাওন তালুকদার ওরফে ইয়াবা শাওন, সাদ্দাম তালুকদার ওরফে সুটার সাদ্দামসহ স্থানীয় কিছু ব্যক্তি তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার বাড়িঘর দখলের হুমকি দেওয়া হয়। এ বিষয়টি নিয়ে তিনি স্থানীয় নেতৃবৃন্দের কাছে অভিযোগ জানালে তার ওপর তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এরপর আজ শুক্রবার আউকপাড়া আদর্শগ্রাম এলাকার একটি দোকান থেকে মুরগির খাবার কিনে অটোরিকশায় উঠার সময় পূর্বশত্রুতার জের ধরে অভিযুক্ত শাওন তালুকদারের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রসহ তার ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা লাঠি, লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করলে তিনি মাথা, নাক, হাত-পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত পান। এক পর্যায়ে লোহার রডের আঘাতে তার নাকের হাড় ভেঙে যায় বলে অভিযোগ তার। এ সময় হামলাকারীরা তার কাছে থাকা ৩৭ হাজার টাকা, একটি আইফোন ১২, একটি ভিভো মোবাইল ফোন, এটিএম কার্ড, জাতীয় পরিচয়পত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, একটি স্বর্ণের চেইন ও একটি স্বর্ণের আংটি ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আশুলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলায় ১৭ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ১০ থেকে ১২ জনকে অজ্ঞাত আসামী করা হয়েছে। এজহার অনুযায়ী মামলার আসামীরা হলেন, ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শাওন তালুকদার ওরফে ইয়াবা শাওন (৩০), মোঃ সাদ্দাম তালুকদার ওরফে সুটার সাদ্দাম (৩৫), মনির তালুকদার (৪৮), মোঃ শাহিন ওরফে কসাই শাহিন (৩৮), মোঃ আমিনুল ইসলাম ওরফে হিপহপ (২৪), মোঃ তাহের ওরফে বিহারী তাহের (২৫), মোঃ রাসেল (৪৫), মোঃ রাহুল (২০), মোঃ সেলিম ওরফে সুটার সেলিম (৩০), মোঃ হৃদয় (৩০), জিএম জুয়েল (৪৫), কবির ওরফে গাইটা কবির (৩৫), জিয়াসমিন আক্তার (৩৫), মোসাঃ শাহনাজ (৩৫), বেলী আক্তার (২২), লাইলী আক্তার (৪২), আদুরী বেগম (৩০)।
এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১০–১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শাওন তালুকদার বলেন, আউকপাড়া এলাকায় আজ হাতাহাতির একটি ঘটনা ঘটেছে বলে শুনেছি। তবে আমি সারাদিন এলাকায় ছিলাম না। আমার মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে গেছিলাম। ওই এলাকায় জমিজমা সংক্রান্ত বিভিন্ন ঝামেলা হয়। সেখানে আমার নাম জড়িয়ে দেওয়া হয়।
গণ-অভ্যুত্থানের আগে যুবলীগ করেছেন কি এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গত ১৭ বছর দেশে কি অবস্থা ছিল সেটাই সবাই অবগত। পিট বাঁচানোর জন্য দুয়েকটি প্রোগ্রামে গিয়েছি। তবে কখনো যুবলীগের রাজনীতি করিনি বা আমার কোনো কর্মসূচিতে গেছি এমন ছবিও নেই এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ওতপ্রোতভাবে সক্রিয় ছিলাম সেটা সবাই জানে।

এ বিষয়ে ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ ইকবাল বলেন, কেউ যদি ছাত্রদলের নাম ভাঙিয়ে যেকোনো ধরনের অপকর্ম করলে তার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করবে। আমি এখনই থানায় ফোন দিয়ে পুলিশকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলব।

গণ-অভ্যুত্থানের আগে যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে শাওন তালুকদারের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তিনি বলেন, আগে যুবলীগ করতো কি না আমার জানা নেই। তবে গণ-অভ্যুত্থানের সময় সে আমার সাথে রাজপথে ছিলো এবং তার পরেও তাকে প্রোগ্রামে আমি পেয়েছি এটা সত্য। সে হিসেবে তাকে আমাদের দলে স্থান দেওয়া হয়েছে।

সার্বিক বিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুবেল হাওলাদার বলেন, ওই ঘটনার অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগ আমলে নিয়ে মামলা নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হবে।

আপনার পছন্দ হতে পারে