জাবি শিক্ষার্থী ধর্ষণের অভিযোগের ইস্যুতে চুপচাপ প্রশাসন, জাকসু ও ছাত্রসংগঠনগুলো

Site Favicon প্রকাশিত: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৯:৩৪
A+A-
Reset

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে যেকোনো ঘটনায় স্বতস্ফুর্ত আন্দোলন সংগ্রামে সোচ্চার থাকেন শিক্ষার্থীরা। সর্বশেষ জুলাই আন্দোলনেও নেতৃত্ব দিয়েছেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এছাড়া দেশে ঘটে যাওয়া যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ, মহাসড়ক অবরোধ, মানববন্ধনসহ বিভিন্নভাবে প্রতিবাদ জারি রাখেন তারা।

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৩ ব্যাচের এক ছাত্রীকে তুলে নিয়ে অমানবিক শারীরিক নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে প্রাক্তন শিক্ষার্থী এসএম তারিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে। তবে অবাক করা বিষয় যে ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা দেশের সব ইস্যুতে সোচ্চার থাকে সে ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা ধর্ষণের মতো এমন বড় অভিযোগ আমলে নিয়ে কোনো ধরনের প্রতিবাদ করতে দেখা যাচ্ছেনা। বিষয়টি ঘিরে সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ওই ঘটনায় প্রতিবাদ হিসেবে শুধুমাত্র ছাত্র ইউনিয়ন বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের নেতা-কর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে বিচারসহ ৫ দফা দাবি জানিয়েছে। এর বাইরে জাকসু, ছাত্রদল, ছাত্রশক্তি, ছাত্রশিবিরসহ কোনো ছাত্র সংগঠনের প্রতিবাদ জানাতে দেখা যায়নি। এছাড়া ভুক্তভোগী ছাত্রীর বিভাগের শিক্ষার্থী কিংবা ব্যাচের শিক্ষার্থীদেরও প্রতিবাদ করতে দেখা যাচ্ছেনা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তেমন কোনো প্রতিবাদ নেই।

গত মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরদিন ভুক্তভোগী নিজে বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন। তবে ঘটনার তিনদিন পার হলেও এখনো পর্যন্ত আসামীকে গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ।

শুধু শিক্ষার্থী নয় প্রশাসনও চুপচাপ:
এদিকে এই ঘটনায় একদিকে যেমন শিক্ষার্থীরা চুপচাপ অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও কোনো ভূমিকা পালন করছেনা।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভাষ্য, ঘটনাটি ঘটেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে এলাকায়। তাই তারা বিষয়টির দায় নিতে চাচ্ছেন না।  এতে করে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী যথাযথ বিচার পাবে কিনা সেটা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।

কি ঘটেছিল সেদিন:
গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের সামনে থেকে ব্ল্যাকমেল করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে তাকে নির্যাতন করেন বলে অভিযোগ উঠে। পরে ওই ছাত্রী জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ কল দিলে আশুলিয়া থানা পুলিশ উদ্ধার করে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানে তিনি তাঁর বিভাগের এক নারী শিক্ষকের কাছে ঘটনার বিবরণ দেন।

ভুক্তভোগীর বরাত দিয়ে ওই নারী শিক্ষক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রের সঙ্গে ভুক্তভোগী ছাত্রীর সম্পর্ক ছিল। পরে ভেঙে যায়। তবে গতকাল মঙ্গলবার প্রাক্তন ওই ছাত্র ভুক্তভোগীর হলের সামনে গিয়ে নানা অগ্রহণযোগ্য কাজ করেন। একপর্যায়ে প্রাক্তন ওই ছাত্র কথা বলার জন্য বাসায় যেতে ওই ছাত্রীকে জোরাজুরি করেন। তিনি রাজি না হলে তাঁকে ব্ল্যাকমেল করেন। পরে প্রাক্তন ওই ছাত্রের বাসায় যান ভুক্তভোগী। তখন ছাত্রীর মুখ টেপ দিয়ে আটকে তাঁকে মারধর করা হয়, হাতে গরম পানি ঢেলে দেওয়া হয়। এছাড়া আরও কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা শেয়ার করেছেন তিনি। পরে বাসার কক্ষের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে দিয়ে প্রাক্তন ওই ছাত্র চলে যান। তখন ৯৯৯–এ কল দিয়ে জানালেন পুলিশ ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে।

আপনার পছন্দ হতে পারে