নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগের নেতা ডা. সেলিনা হায়াত আইভি পাঁচটি মামলায় জামিন পাওয়ায় আনন্দ প্রকাশ করে ফেসবুকে একটি আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক।
আজ বৃহস্পতিবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থী ও জুলাই আন্দোলনে পুলিশি হামলায় উস্কানিদাতা হিসেবে অভিযুক্ত অধ্যাপক জেবউন্নেসা তার ফেসবুকে এক পোস্টের মাধ্যমে এ আবেগঘন লেখা লিখেছেন। ওই পোস্টে তিনি, “এ আঁধার কেটে আলো আসবেই। জয় বাংলা” প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
অধ্যাপক জেবউন্নেসা লেখেন, “শুকরিয়া রাব্বুল আলামিনের নিকট যার ইশারায় প্রাচ্যের ড্যান্ডি শিল্প নগরী নারায়ণগঞ্জ জেলার কৃতি সন্তান নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের অন্যতম সফল মেয়ার নারায়ণগঞ্জ জেলার সন্ত্রাসবিরোধী আইকন আমাদের প্রিয়জন শ্রদ্ধেয় ডা. সেলিনা হায়াত আইভি আপা পাঁচটি মামলায় জামিন পেয়েছেন আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহ চাহেত আসন্ন ঈদে আপার সাথে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করব।ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ ভরসা। আল্লাহ সর্ব শক্তিমান। তিনি মহাপরাক্রমশালী প্রজ্ঞাবান।তিনি যা চাইবেন তাই হবে। এ আঁধার কেটে আলো আসবেই। জয় বাংলা।”
পোস্টে অধ্যাপক জেবউন্নেসা ডা. আইভিকে ‘নারায়ণগঞ্জ জেলার সন্ত্রাসবিরোধী আইকন’ এবং ‘সফল মেয়র’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
প্রসঙ্গত, জুলাই আন্দোলনে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার এ ঘটনার পর তৎকালীন আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের কিছু কথোপকথন ফাঁস হয়। ফাঁস হওয়া সেসব কথোপকথনে অন্যান্য শিক্ষকদের পাশাপাশি অধ্যাপক শফিক ও জেবউন্নেসাকে শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশি হামলার উসকানি দিতে দেখা যায়।
ফাঁস হওয়া একটি স্ক্রিনশটে এক শিক্ষক কর্তৃক পুলিশ অ্যাকশনে যাওয়ার কথা বললে সেখানে অধ্যাপক জেবউন্নেসা শিক্ষার্থীদের ধিক্কার জানিয়ে উসকানি দেন। অপরদিকে অধ্যাপক শফিক শিক্ষার্থীদের সন্ত্রাসী বলে আখ্যা দেন। এছাড়া পুলিশি হামলার উসকানি দিতে থাকেন।
তিনি আরও বলেন, বেয়াদর কত প্রকার ও কি কি? টকশোতে বসে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মহামান্য রাষ্ট্রপতি বলে সম্বোধন করা দূরের কথানাম নিয়ে আলোচনা করে। সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে পড়লেই কি সর্বোচ্চ বিনয়ী হওয়া যায়? বিনয়ে আভিজাত্য প্রকাশ হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গণঅভ্যুত্থানের পর জুলাইয়ে আন্দোলন চলাকালে হামলাকারী ছাত্রলীগ ও উসকানিদাতা শিক্ষকদের বিচারের দাবি জানায় শিক্ষার্থীরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৯ শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া হামলার ঘটনায় আরও ১০ শিক্ষক ওঅ বরখাস্ত ৯ জনের জন্য স্ট্রাকচার্ড কমিটি গঠন করে। তবে প্রাথমিক কমিটির প্রতিবেদনে উসকানিদাতা অধ্যাপক শফিক ও জেবউন্নেসার নাম বাদ পড়ায় তদন্ত কার্যক্রম নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বিচারপ্রার্থী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।