পলাশ–কোকিলের সুর ও কীর্তনখোলা নদীর স্নিগ্ধ বাতাসে বসন্তমুখর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস

by অনলাইন ডেস্ক
Site Favicon প্রকাশিত: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৮:১১
A+A-
Reset

শীতের বিদায় ঘণ্টা বাজতেই নরম রোদ, মৃদু বাতাস আর স্নিগ্ধ আলোর স্পর্শে বসন্ত এসে ধরা দেয় প্রকৃতির বুকে। ঋতুর এই পরিবর্তন শুধু ক্যালেন্ডারের পাতায় নয়, অনুভবে, রঙে ও সুরে জানান দেয় তার উপস্থিতি। সেই রঙিন আগমনের সবচেয়ে উজ্জ্বল রূপ ফুটে ওঠে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ-শ্যামল ক্যাম্পাসে।

বরিশাল শহর থেকে কীর্তনখোলা নদীর তীর ঘেষা ৫৩ একরজুড়ে বিস্তৃত এই প্রাঙ্গণ যেন মুহূর্তেই রঙের এক জীবন্ত ক্যানভাসে পরিণত হয়; যেখানে প্রকৃতি ও তারুণ্য মিলেমিশে তৈরি করে এক অনন্য আবহ।

বসন্তের ছোঁয়ায় গাছপালায় জেগে ওঠে নতুন প্রাণ। লাল পলাশের আগুনরাঙা ফুল ক্যাম্পাসজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে, যেন প্রকৃতি নিজ হাতে এঁকে দিয়েছে রঙিন ক্যানভাস। এর সঙ্গে কোকিলের মধুর ডাক যোগ হয়ে বসন্তের আগমনী বার্তাকে আরও স্পষ্ট করে তোলে। সকালবেলা ক্লাসে যাওয়ার পথে কিংবা বিকেলে মুক্তমঞ্চে হাঁটতে হাঁটতে সেই সুরেলা ডাক শিক্ষার্থীদের মনে এনে দেয় অন্যরকম আনন্দ।

শুধু প্রকৃতিই নয়, বসন্ত বদলে দেয় শিক্ষার্থীদের মনও। ক্লাসের ফাঁকে আড্ডা, ক্যাম্পাসজুড়ে ছবি তোলা, বাসন্তী রঙের পোশাকে সেজে ওঠা—সব মিলিয়ে ছড়িয়ে পড়ে উৎসবের আমেজ। বসন্ত মানে শুধু ফুল আর পাখির গান নয়, এটি নতুন শুরুর প্রতীক। যেমন গাছে নতুন পাতা জন্মায়, তেমনি শিক্ষার্থীদের মনেও জন্ম নেয় নতুন স্বপ্ন ও প্রত্যাশা।

পরীক্ষার প্রস্তুতি, গবেষণার ভাবনা, ক্লাসের পরিকল্পনা কিংবা ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের লক্ষ্যে বসন্তের প্রেরণা কাজ করে। প্রকৃতির নবজাগরণ শিক্ষার্থীদের মনে জাগায় আশাবাদ ও আত্মবিশ্বাস। এই ঋতু আমাদের শেখায় পরিবর্তনের সৌন্দর্য। প্রতিটি ঝরা পাতা যেমন নতুন পাতার জন্মের পথ তৈরি করে, তেমনি জীবনের প্রতিটি চ্যালেঞ্জ নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেয়। বসন্ত সেই সম্ভাবনারই প্রতীক হয়ে ধরা দেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এই প্রাঙ্গণে।

শীত বিদায়ের সঙ্গে বসন্ত আসে—শুধু ঋতু নয়, এটি নতুন সম্ভাবনা, নতুন জীবন, নতুন উচ্ছ্বাসের বার্তা। ক্যাম্পাসের প্রতিটি কর্ণার, প্রতিটি গাছ, প্রতিটি ফুল শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ, আনন্দ এবং নতুন উদ্যমের জন্ম দেয়। বসন্তের এই সৌন্দর্য শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, মননশীলতা ও আভ্যন্তরীণ শক্তিকে উদ্দীপ্ত করে।

সব মিলিয়ে পলাশের আগুনরাঙা ফুল, কোকিলের সুরেলা ডাক, নদীর স্নিগ্ধ বাতাস আর তারুণ্যের উচ্ছ্বাসে বসন্তমুখর হয়ে ওঠে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়-এর ক্যাম্পাস। এটি তখন কীর্তনখোলা নদীর স্নিগ্ধ বাতাস এই সৌন্দর্যকে আরও গভীর করে তোলে।বসন্ত তাই এখানে শুধু ঋতু পরিবর্তন নয়; এটি নতুন স্বপ্ন, সম্ভাবনা ও তারুণ্যের উচ্ছ্বাসের প্রতীক। প্রকৃতি ও তারুণ্যের মিলনে ববি হয়ে ওঠে প্রাণের এক উজ্জ্বল উৎসব।

লেখক: ওরাইনা খাঁন চৌধুরী, শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়।

আপনার পছন্দ হতে পারে