জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে ব্ল্যাকমেল করে ভাড়া বাসায় ডেকে নিয়ে শারীরিক নির্যাতনের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার সম্পন্ন নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে ছাত্র ইউনিয়ন বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের নেতা-কর্মীরা।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনে উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসানের কাছে পাঁচ দফা সম্বলিত এক স্মারকলিপি দেন তারা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে দেওয়া স্মারকলিপিতে ছাত্র ইউনিয়নের নেতা-কর্মীরা উল্লেখ করেন, অভিযুক্ত তারিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর ও উদ্বেগজনক। এ ধরনের ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ অ্যাকাডেমিক পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ও অনাস্থার সৃষ্টি করে। একটি আবাসিক ও প্রগতিশীল উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম দায়িত্ব হলো শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, সম্মান ও অধিকার নিশ্চিত করা। অভিযোগের যথাযথ ও দৃষ্টান্তমূলক নিষ্পত্তি না হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের সহিংসতা ও নির্যাতনের ঘটনা বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
স্মারকলিপিতে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেন তারা। তাদের দাবিগুলোর হলো-অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর অ্যাকাডেমিক সনদ অবিলম্বে স্থগিত করা, একটি নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও সময়সীমাবদ্ধ তদন্ত কমিটি গঠন করে দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করা, অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা, তদন্তকালীন সময়ে অভিযুক্তকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর নীতিমালা ও অভিযোগ ব্যবস্থাপনা কাঠামো জোরদার করা।
এর আগে, গত মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী ইসলামনগর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় এক ছাত্রীকে জোরকরে নিয়ে ডেকে নিয়ে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠে। পরে ওই ছাত্রী জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ কল দিলে পুলিশ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী (৪৪ তম ব্যাচ) এসএম তারিকুল ইসলামকে আসামী করে আশুলিয়া থানায় ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতনের মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী ছাত্রী। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের (৫৩ তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী।