গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গোবিপ্রবি) প্রক্টর পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ এবং পরবর্তী সময়ে এক শিক্ষার্থীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) এনিমেল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন একাডেমিক সমস্যার সমাধানের দাবিতে প্রশাসনিক ভবনের সামনে উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় উপাচার্য আকস্মিকভাবে তৎকালীন প্রক্টর আরিফুজ্জামান রাজীবকে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিলে তার বিভাগ ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই)-এর কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উপাচার্যের কাছে এ বিষয়ে জানতে যান।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, এ সময় ক্যাম্পাস ছাত্রদলের দুটি পক্ষ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সাবেক ও নবনিযুক্ত প্রক্টরকে কেন্দ্র করে নিজেদের মধ্যে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে ছাত্রদলের সহ-সভাপতি জহির (মার্কেটিং, ২০১৬–১৭ সেশন) ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক নাহিদকে (এএসভিএম, ২০২০–২১ সেশন) ঘুষি মারেন বলে অভিযোগ ওঠে। এতে নাহিদ আহত হন।
পরবর্তীতে নাহিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে দাবি করেন, নাজমুল (ইইই, ২০২০–২১ সেশন) এবং শাহাদাত (ইইই, ২০২০–২১ সেশন) তাকে দুই পাশ থেকে ধরে রেখে হামলায় সহায়তা করেছেন। তিনি নতুন প্রক্টর এস এম আহসান সৌরভের কাছে ঘটনার তদন্ত দাবি করেন।
তবে নাজমুল এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার ভাষ্য, প্রক্টর পরিবর্তনের বিষয়ে বিস্মিত হয়ে তিনি ও তার বিভাগের কয়েকজন শিক্ষক-শিক্ষার্থী উপাচার্যের কাছে ব্যাখ্যা জানতে গিয়েছিলেন। এ সময় ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হলে এবং নাহিদ আঘাতপ্রাপ্ত হলে তিনি বন্ধুকে টেনে সরিয়ে নেন। কিন্তু ভুল বোঝাবুঝির কারণে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয় এবং প্রতিশোধের জন্য নিয়মিত হুমকি দেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন।
এরই মধ্যে মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নিজ বিভাগের ইফতার অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ক্যাম্পাসে গেলে নাজমুলের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, নাহিদ দৌড়ে এসে নাজমুলের গলা চেপে ধরেন। উপস্থিতরা তাকে ছাড়ানোর চেষ্টা করলে নাহিদ স্থান ত্যাগ করেন।
নাজমুল এ ঘটনাকে “হত্যাচেষ্টা” বলে অভিহিত করে বিচার দাবি করেন। দীর্ঘ সময় গলা চেপে ধরায় তার শ্বাসরোধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল এবং প্রত্যক্ষদর্শীরা না এগিয়ে এলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। তিনি বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করলে তার নির্দোষ প্রমাণ পাওয়া যাবে।
ঘটনার পর নবনিযুক্ত প্রক্টর এস এম আহসান সৌরভ এবং সাবেক প্রক্টরসহ কয়েকজন শিক্ষক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলেন।