ভাষা আন্দোলনে নারীদের অবদান

by অনলাইন ডেস্ক
Site Favicon প্রকাশিত: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫:২৯ আপডেট: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫:৪৮
A+A-
Reset

ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত নারীদের ভূমিকা ছিল অনন্য। রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে দেশের আপামর জনতা নেমে এসেছিল রাজপথে। সেই রাজপথে পুরুষদের পাশাপাশি ছিলেন নারীরাও। ভাষা আন্দোলনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নারীদের ভূমিকা ছিল অনবদ্য। মিছিল, মিটিং থেকে শুরু করে সবখানেই ছিল নারীর সক্রিয় অবস্থান। বিশেষ করে, আন্দোলনের পোস্টার, ব্যানার, কার্টুন লেখায় নারীদের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

পাকিস্তানি দোষরদের শোষণ নিপীড়নের প্রথম আঘাত হয়েছিল ভাষার উপর। ১৯৪৭ সালে করাচিতে জাতীয় শিক্ষা সম্মেলনে একটি ঘোষণাপত্রে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে সুপারিশ করা হয়। সেদিনই বিরোধিতা এবং প্রতিবাদ শুরু হয়।

তখন সমাজ ছিল রক্ষণশীল নারীদের চলাফেরা ছিল নানা রকম প্রতিবন্ধকতা। বিশ্ববিদ্যালয় ছেলে-মেয়ে একসাথে লেখাপড়ায় ছিল অনেক প্রতিকূলতা। এমন পরিস্থিতিতে আন্দোলনে যুক্ত হওয়া ছিল নারীদের জন্য কঠিন।
১৯৪৭-৫১ মাত্র চার বছরের ব্যবধানে তখন মোট ছাত্রীর সংখ্যা ছিল ৮০ থেকে ৮৫ জন এবং এই ছাত্রীরাই ছাত্রদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়েছেন ভাষার জন্য।
আজ আমরা কিছু ভাষা সৈনিকের সম্পর্কে জানবো

নাদেরা বেগম

নাদেরা বেগম ভাষা আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক এবং কর্মী ছিলেন। তিনি ২রা আগস্ট ১৯২৯ সালে সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৮ সালে ব্রাবোর্ন কলেজ থেকে বিএ পাস করেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইংরেজি সাহিত্যে এমএ পাস করেন। ১৯৪৮ সালে মার্চ এ সারা বিশ্ববিদ্যালয় এর বেলতলায় বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে অনুষ্ঠিত সভাতে তিনি অংশগ্রহণ করেন। উক্ত সবাই পুলিশি অ্যাকশনে তিনি আহত হন।তিনি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে নারী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের জন্য উদ্বুদ্ধ করতেন। তিনি ২০১৩ সালে ১২ই এপ্রিল মারা যান।

শরিফা খাতুন

ভাষা আন্দোলনে শরিফা খাতুনের ভূমিকা ছিল অতুলনীয়। তিনি ১৯৩৬ সালের ৬ ডিসেম্বর ফেনী জেলার জন্মগ্রহণ করে কুমিল্লা শহরে লুৎফুন্নেসা স্কুলে লেখাপড়া করেন। ১৯৫৩ সালে ইডেন কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন এবং ১৯৫৭ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইসলাম ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি নিয়ে স্নাতক পাস করেন। ১৯৫৮ সালে এম এ পাস করেন। ১৯৪৮ সালে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা দেয় এই ঘোষণার পরে আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে দ মিছিল হয়। নোয়াখালীতে যখন মিছিল হয় তখন শরিফা খাতুন স্কুল ছাত্রী। তখনই সে ওই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে। এবং ১৯৫২ সালের আন্দোলননেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
মহান ভাষা আন্দোলনে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য ২০১৭ সালে তাকে একশে পদক দেওয়া হয়

মমতাজ বেগম

বাংলা ভাষা আন্দোলন অন্যতম প্রধান সংগ্রামী ছিলেন মমতাজ বেগম। তার প্রকৃত নাম কল্যাণী রায় চৌধুরী এবং ডাকনাম ছিল মিনু। ১৯২৩ সালে কলকাতার হাওড়া জেলার শিবপুরে সম্ভ্রান্ত হিন্দু পরিবারে জন্মগ্রহণ করে। ১৯৪৭ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লেখাপড়া করেন এবং ১৯৫১ বিএড পরীক্ষায় পাস করেন তারপর নারায়ণগঞ্জ মর্গান স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে শুরু করেন নতুন যাত্রা। ১৯৫২ সালের চারিদিকে যখন রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে উত্তাল মমতাজ বেগুন তখন নারায়ণগঞ্জ জেলার মর্গান হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা। ছাত্র হত্যার খবর যখন নারায়ণগঞ্জে পৌঁছায় রহমত উল্লাহ মুসলিম ইনস্টিটিউটে জনসভা ডাকা হয়। মমতাজ বেগম তার ৩০০জন শিক্ষার্থী নিয়ে সে সভায় অংশগ্রহণ করে।
আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার অপরাধে ১৯৫২ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং প্রায় দুই বছর কারাগারে বন্দি থাকতে হয়।
মমতাজ বেগম ৩০ শে মার্চ ১৯৬৭ সালে মৃত্যুবরন করেন

হালিমা খাতুন

মহান ভাষা আন্দোলনে তার তিনি অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
হালিমা খাতুন ২৫ শে আগস্ট ১৯৩৩ সালে বাগেরহাট জেলায় বাদেকাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫১ সালে বিএ পাসের পরে সেই বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইংরেজি বিভাগ ভর্তি হন। ১৯৫২ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের উত্তোল দিনগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তার মূল দায়িত্ব ছিল পিকেটিং করা। তিনি ছাত্রীদের সমাবেশের সমবেত করার ব্যবস্থা ও তিনি সাংগঠনিক ভূমিকা পালন করতেন। তিনি ১৯৬১সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে যোগদান করেন। তিনি ৩রা জুলাই ২০১৮ মৃত্যুবরণ করেন। তার অবদানের জন্য তিনি মারা যাওয়ার ১ বছর পর ২০১৯ সালে একুশে পদক প্রদান করা হয়

লেখা: শামিম রেজা, শিক্ষার্থী ও সংবাদকর্মী,
গণ বিশ্ববিদ্যালয়।

আপনার পছন্দ হতে পারে