জেল থেকে ছাড়া পেয়ে যা বললেন রাজপাল যাদব

by অনলাইন ডেস্ক
Site Favicon প্রকাশিত: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬:১৩
A+A-
Reset

গত সোমবারই দিল্লি উচ্চ আদালতের রায়ে বড় স্বস্তি পেয়েছেন রাজপাল যাদব। ৯ কোটি রুপির চেক বাউন্স মামলায় অন্তর্বর্তীকালীন জামিনে জেল থেকে ছাড়া পেয়েছেন বলিউড অভিনেতা। সে পরিপ্রেক্ষিতেই অবশেষে ১১ দিন বাদে তিহার জেল থেকে বাড়িতে ফিরেছেন রাজপাল। গতকাল বুধবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রাজপাল জেল সংস্কারের দাবি জানিয়ে বলেন, ‘দোষী আর সম্মানীয় ব্যক্তির মধ্যে তফাত করা হয় না।’ তাহলে কি তারকা হিসেবে আলাদা সম্মান না পাওয়ার ক্ষোভ উগরে দিলেন বলিউড অভিনেতা?

এদিন রাজপাল বলেন, ‘আমার ধারণা, “কৌন বনেগা ক্রোড়পতি”–তে যেমন “লাইফ লাইন”-এর সুবিধে রয়েছে, তেমনই অন্তত ১০ শতাংশ বন্দীরও এমন “লাইফ লাইন” পাওয়ার সুযোগ দেওয়া হোক। যদি তাদের মধ্যে ১০ শতাংশও মুক্তি পায় বা পুনর্বাসিত হয়, তাহলে তারা আমাদের দেশের জন্য শক্তি হয়ে দাঁড়াতে পারে।’

জেলে কীভাবে দিন কাটছিল রাজপাল যাদবের? অনুরাগীদের উদ্বেগের মধ্যেই জানা যায়, তিহার জেলে বাড়তি কোনো সুবিধা তিনি পাননি। সংশোধনাগারের বাকি বন্দীদের মতোই অভিনেতার খাওয়াদাওয়া ও থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। বিশ্রামও নিতে হচ্ছিল ঘড়ির কাঁটা ধরে।

রাজপাল যে ‘সেলে’ ছিলেন, সেখানে একসময়ে ছোটা রাজন, গ্যাংস্টার নীরাজ বাওয়ানার মতো কুখ্যাত ব্যক্তিদের রাখা হয়েছিল। শুধু তা–ই নয়, সকাল ছয়টা বাজতেই রাজপালকে এক কাপ চা আর রুটি দেওয়া হচ্ছিল প্রাতরাশ হিসেবে। ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে সন্ধ্যা ছয়টায় আবার রাতের খাবার খেতে দেওয়া হচ্ছিল। ডাল-ভাত, রুটি-সবজি ব্যাস! এরপর খিদে পেলেও সংশোধনাগারে আর খাওয়ার অনুমতি ছিল না অভিনেতার। তবে জেলে বলিউড তারকাকে পেয়ে নাকি বেজায় উচ্ছ্বসিত হয়েছিলেন সেখানকার বাকি বন্দীরা; যদিও নিরাপত্তার কারণে রাজপাল যাদবের সঙ্গে কারও সাক্ষাতের অনুমতি ছিল না, তবে একঝলক দেখার জন্য নাকি উদ্‌গ্রীব থাকতেন তাঁরা। এবার জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরই তাঁদের হয়ে আওয়াজ তুললেন বলিউড তারকা।

রাজপাল যাদবের মন্তব্য, ‘আমার একটা আবেদন রয়েছে। আমাদের দেশে জানি না কেন বন্দী আর সম্মানীয় ব্যক্তিদের মধ্যে তফাত করা হয় না। তবে এই কয় দিনে খেয়াল করলাম, আজকের দিনে দাঁড়িয়ে জেলগুলোর সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। এমন কিছু বন্দী আছেন, যাঁরা ইতিমধ্যেই দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন এবং তাঁদের আদালতে যাওয়ার প্রয়োজনও হয় না। হয়তো ১০ বছর ধরেই জেলে আটকে রয়েছেন। সময়ের সঙ্গে তাঁদের আচরণ ও কাজকর্ম পর্যবেক্ষণও করা হচ্ছে।’

এদিন অভিনেতা আরও বলেন, ‘বলিউডে ৩০ বছর পূর্ণ করতে যাচ্ছি। সমগ্র দেশের মানুষ যেভাবে আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন এযাবৎকাল, সে কারণেই আমি ২০০ থেকে ২৫০টি ছবি করতে পেরেছি। এ দেশের প্রত্যেকেই আমার হৃদয়ের অংশ…তাঁরা আমার সঙ্গে ছিলেন এবং রয়েছেনও।’

হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে

আপনার পছন্দ হতে পারে