ছাত্রশিবির ও ভিপি জিতুর ক্যাম্পাস রাজনীতির ভেতরের গল্প তুলে ধরলেন জাকসু নেতা আহসান লাবিব

Site Favicon প্রকাশিত: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৭:২৬ আপডেট: ০১ মার্চ ২০২৬ ১৫:৩৩
A+A-
Reset

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) জাকসু ভিপি আব্দুর রশিদ জিতুর সাম্প্রতিক বিএনপিতে যোগদানকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাস রাজনীতির দীর্ঘ ও জটিল প্রেক্ষাপট তুলে ধরেছেন জাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক ও ছাত্রশক্তির নেতা আহসান লাবিব।

আজ শুক্রবার দুপুরে তার ব্যক্তিগত ফেসবুকে স্টাটাসের মাধ্যমে বিস্তর প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন তিনি।

আহসান লাবিবের ভাষ্যমতে, সাবেক কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক আরিফ সোহেলের একটি লক্ষ্য ছিল ছাত্রলীগের ভেতর থেকেই ছাত্রলীগারদের ব্যবহার করে সংগঠনটির অভ্যন্তরে একটি পরিবর্তন বা ‘ক্যু’ ঘটানো। এই উদ্দেশ্যে তিনি তুলনামূলকভাবে ভালো কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন এবং তাদের সঙ্গে রাজনৈতিক আইডিয়া শেয়ার করতেন। সে সময় জিতু ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বিশেষ করে ১৫ জুলাইয়ের হামলার অন্যতম সংগঠক হিসেবে পরিচিত ছাত্রলীগ নেতা এনামের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন বলে জানান তিনি।

পরবর্তীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন (বৈছাআর) শুরু হলে, আন্দোলনকে ছাত্রলীগের ভেতরেও গ্রহণযোগ্য করতে আরিফ সোহেল ভাই ছাত্রলীগের কয়েকজনকে যুক্ত করেন, যার মধ্যে জিতু ভাই অন্যতম ছিলেন। তবে আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নেয়।
আহসান লাবিব বলেন, “আরিফ সোহেল ভাই ও আমরা ক্যাম্পাসে বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলাম। ধর্ষণবিরোধী আন্দোলনের সময় ছাত্রশিবিরের মেকানিজমে আরিফ সোহেল ভাই ক্যাম্পাস রাজনীতিতে লিডার হিসেবে সামনে চলে আসেন। কিন্তু তিনি সবসময় নিজের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক অবস্থান দাঁড় করাতে চেয়েছেন।”

তার ভাষ্য অনুযায়ী, বৈছাআর কমিটি গঠনের সময় আরিফ সোহেল ছাত্রশিবিরকে বাদ দিয়ে কমিটি দেন, এতে শিবিরের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়। পরবর্তীতে কমিটি বর্ধিত করা হলেও রাজনৈতিক বোঝাপড়ার ঘাটতির কারণে ছাত্রশিবির আরিফ সোহেলের প্রতি বিরূপ মনোভাব পোষণ করতে থাকে।
এক পর্যায়ে ছাত্রশিবির আন্দোলনে আরিফ সোহেলকে পাশে সরিয়ে অপেক্ষাকৃত কম রাজনৈতিক বোঝাপড়াসম্পন্ন একজনকে সামনে আনার সিদ্ধান্ত নেয় এবং জিতু ভাইকে বেছে নেয়। শিবিরের সমর্থনে জিতু ভাই বৈছাআরের ‘সুপ্রিম লিডার’ হিসেবে আবির্ভূত হন। এ সময় শিবিরের নির্দেশনা অনুযায়ীই জিতু ভাই রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করতেন বলে দাবি করেন আহসান লাবিব।
তিনি আরও জানান, অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বৈছাআর ভেঙে গেলে জিতু ভাইকে সামনে রেখে ‘গণঅভ্যুত্থান রক্ষা আন্দোলন’ গড়ে তোলা হয়, যেখানে ছাত্রশিবির জিতু ভাইকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দেয়। তবে শিবির-সমর্থিত হওয়ার কারণে জিতু ভাই বামপন্থী ছাত্রসংগঠন ও ছাত্রদলের বিরোধিতার মুখে পড়েন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পরবর্তীতে জাকসু নির্বাচন সামনে এলে নানা বাস্তবতায় ছাত্রশিবির জিতু ভাইয়ের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করে এবং জিতু ভাই একা হয়ে পড়েন। এরপর তিনি আবার তথাকথিত ‘সফট লীগারদের’ সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন। তাদের সমর্থন, নিজের গ্রহণযোগ্যতা ও সাংগঠনিক কাজের কারণে শিক্ষার্থীদের ভোটে তিনি জাকসুর ভিপি নির্বাচিত হন।
আহসান লাবিব বলেন, “ভিপি হওয়ার পর জিতু ভাই প্রকাশ্যেই লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি বন্ধ করার কথা বলেন। তবে রাজনৈতিক ব্যাকআপের প্রয়োজনীয়তার কারণে তিনি বিভিন্ন দলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন।”
তার দাবি অনুযায়ী, রাজনৈতিক দলে যোগদানের লক্ষ্যে জিতু ভাই এনসিপি ও বিএনপির সঙ্গে আলাদা আলাদা ক্লোজডোর মিটিং করেন। সর্বশেষ তিনি আজ আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন।

আপনার পছন্দ হতে পারে