জাবি শিক্ষকের আঘাতে বাসের গ্লাস ভেঙে আহত ড্রাইভারকে ফের মারধরের করলো কয়েকজন ছাত্র

Site Favicon প্রকাশিত: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৯:২৯ আপডেট: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৯:৪৮
A+A-
Reset

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) সহকারী অধ্যাপক পলাশ সাহার বিরুদ্ধে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে চলাচলকারী সাভার পরিবহনের একটি বাসের গ্লাস ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এতে গ্লাসের ভাঙা টুকরা লেগে বাসের চালক ও এক যাত্রী আহত হয়েছেন।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক সংলগ্ন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক ভুক্তভোগীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং চিকিৎসার জন্য চালককে দুই হাজার টাকা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, আজ দূপুরের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক সংলগ্ন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে রাস্তায় বাস থামিয়ে যাত্রী তুলছিলেন সাভার পরিবহনের একটি বাস৷ এ সময় অভিযুক্ত শিক্ষক পলাশ সাহা তার মোটরসাইকেলটি বাসের ডান পাশ দিয়ে ক্রস করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে প্রবেশের জন্য বাসের সামনে থেকে বামে মোড় নেন। হঠাৎ বাসের ডান পাশের ফাকা জায়গা দিয়ে একটি মিনি পিক-আপ ভ্যান ঢুকে গেলে ওই শিক্ষক তার মোটরসাইকেলের হার্ডব্রেক করেন এবং সড়কে পড়ে যান। এরপর তিনি উঠে ওই বাসের চালকের কাছে যান এবং তার বাস কেনো রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে যাত্রী তুলছেন এবং তার ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে কি না ইত্যাদি জিজ্ঞেস করেন। এক পর্যায়ে ওই শিক্ষক বাসের জানালায় (চালকের ডান পাশের গ্লাস) মোটরসাইকেলের হেলমেট দিয়ে আঘাত করলে গ্লাস ভেঙে যায় এবং কাচের টুকরা বাসের চালক মো. আতিক চৌধুরী এবং বাসের এক নারী যাত্রী হাসনা আক্তার জাহেদার শরীরে লাগে। এতে বাসের চালকের শরীরের কয়েক জায়গায় কাচের টুকরা লেগে কেটে যায় এবং ওই নারী যাত্রীর মাথায় আঘাত লাগে। পরে বাসের অন্যান্য যাত্রীরা উত্তেজিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখার কর্মকর্তারা এসে অভিযুক্ত শিক্ষককে প্রক্টরিয়াল কার্যালয়ে নিয়ে যান এবং ভুক্তভোগী দুজনকে চিকিৎসার জন্য মেডিকেল সেন্টারে পাঠান।

অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে ইন্সটিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সহকারী অধ্যাপক পলাশ সাহা বলেন, হিট অব দ্য মোমেন্ট আমি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটিয়ে ফেলেছি। তারকাছে দুঃখপ্রকাশ করেছি এবং চিকিৎসার জন্য ক্ষতিপূরণও দিয়েছি। আরেকজন যাত্রী যিনি আহত হয়েছেন তার কাছে আমার কার্ড দিয়েছি তার কোনো সহযোগিতা দরকার হলেও আমি করব জানিয়েছি।

এবার মারলো ছাত্ররা:
এদিকে প্রক্টর কার্যালয়ে মীমাংসার পর আবারও ওই বাসের ড্রাইভারকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন ছাত্রের বিরুদ্ধে। বাসের চালক আতিক চৌধুরী এ অভিযোগ তুলেছেন। এ সংক্রান্ত একটি অডিও কল রেকর্ড এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।

ওই কল রেকর্ডের ভুক্তভোগীর ভাষ্য, তিনি প্রক্টর কার্যালয়ে মীমাংসিত করে বাসের ওখানে যান। এ সময় কয়েকজন স্টুডেন্ট এসে তাকে বাসের মধ্যে উঠতে বলেন। বাসে ওঠার পর চার থেকা পাঁচজন তাকে মারধর করেন। ভ

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক একেএম রাশিদুল আলম বলেন, উভয়ই পক্ষই আমাদের কার্যালয়ে এসেছিলেন। বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে। ওই শিক্ষক ড্রাইভারের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং চিকিৎসা বাবদ দুই হাজার টাকা ও আহত যাত্রীর চিকিৎসার খরচ বহনের কথা বলেছেন।’
ফের মারধরের বিষয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমরা এখনো কনফার্ম নই। যদি কেউ অভিযোগ দেয় তাহলে সে অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নিব। আমাদের সিকিউরিটি অফিসার তার বাইকে করে ড্রাইভারকে বাসের ওখানে দিয়ে এসেছে। এটা আমরা সিসিটিভি ক্যামেরায় দেখেছি। এবং তাকে দিয়ে আসার পর বাসটি সেখানে ২০ মিনিট অবস্থান করে।

আপনার পছন্দ হতে পারে