নারীর প্রতি অবমাননাকর বক্তব্যের প্রতিবাদে জবিতে বিক্ষোভ

Site Favicon প্রকাশিত: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:৫০
A+A-
Reset

চুয়াডাঙ্গাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নারীর প্রতি অবমাননাকর বক্তব্য এবং নির্বাচনী সহিংসতায় শেরপুরে জামায়াত নেতার নিহত হওয়ার প্রতিবাদে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে মাওলানা ভাসানী ব্রিগেড।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্ত চত্বরে এ বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে প্রতিবাদী ফেস্টুন হাতে নিয়ে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাস প্রাঙ্গন প্রদক্ষিণ করেন।

এসময় তাজওয়ার নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, “রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে নারীদের প্রতি আক্রমণ হচ্ছে। শেরপুর জামায়াত নেতাকে ‘রাজনৈতিক হত্যা’ করা হচ্ছে। আমরা চাই এসব বন্ধ হোক। সর্বোপরি ওসমান হাদী, দীপু চন্দ্র দাস, আয়শা ও তোফাজ্জলদের হত্যার বিচার চাই।”

বিক্ষোভ মিছিলে বক্তব্য দেন ছাত্রফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম মারুফ। তিনি বলেন, “নির্বাচনী প্রচারণার মধ্য দিয়ে আমরা দেখছি নানা ধরনের সহিংসতা ও বিদ্বেষমূলক কথা প্রকাশ পাচ্ছে। এটা যারা করছে তারা সঠিক রাজনীতি করছে না। বরং একটা অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।”

এ সময় ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি ইভান তাহসিভ বলেন, “পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশে বিভিন্ন ধরনের হত্যাকাণ্ড ও গণহত্যা চালায়, এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রোকেয়া হলেই কিন্তু তারা একটা রেপের, একটা ধর্ষণের কারখানা বানিয়েছিল এই জামাতে ইসলামীসহ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী।”

তিনি আরও বলেন, “তাহলে আজকে যখন আমরা এই কথা বলছি, সেই চুয়াডাঙ্গায় বিএনপির একজন প্রার্থী যখন জামাতের নারীদের উদ্দেশ্য করে এরকম লাঞ্ছনামূলক কথা বলছে, তখন আমরা বলতে চাই আপনি যখন এগুলোর বিরুদ্ধে বলবেন, তখন সকল ঘটনাকে অ্যাড্রেস করে বলবেন। সবগুলো নিপীড়নের ঘটনাকে, সব ধরনের নারী বিদ্বেষের ঘটনাকে এবং নারীর প্রতি হওয়া সব ধরনের আক্রমণের ঘটনকে অ্যাড্রেস করে বলবেন।”

বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, “এবং নিজেদের অতীতের যে ভুল এবং নিজেদের যে ভূমিকা এই দলেরই আরেকজন প্রধান নেতা যখন বলেন যে বাংলাদেশে একজন নারী প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন না বা তার দল থেকে একজন নারী প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন না, তাহলে বাংলাদেশের মানুষ কীভাবে বিশ্বাস করবে যে তারা সকল মানুষের, সকল লিঙ্গের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে?”

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ইভান তাহসিভ বলেন, “বন্ধুগণ, আমরা বলতে চাই এই যে বাংলাদেশের নাগরিকরা একের পর এক দীর্ঘদিন ধরে তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। তারা একটা সাধারণ মর্যাদাপূর্ণ নাগরিক জীবন থেকে বঞ্চিত। সেগুলো নিয়ে কোনো কথা হয় না, অথচ আমরা দেখছি এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ঢালাওভাবে শুধু গণভোটের প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “এই গণভোটে আসলে মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হবে কিনা, প্রত্যেকটা লাইন ধরে ধরে সেটা বলুক। এতদিন ধরে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি তারা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি।”

বিক্ষোভ কর্মসূচিতে জকসু নির্বাচনে মাওলানা ভাসানী ব্রিগেড নামে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা প্যানেলের অন্যান্য প্রার্থীসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার পছন্দ হতে পারে