শেরপুরে জামায়াত নেতা হত্যার প্রতিবাদে গভীর রাতে উত্তাল বেরোবি

Site Favicon প্রকাশিত: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:২৯ আপডেট: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:৩০
A+A-
Reset

শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে বিএনপি–জামায়াত সংঘর্ষে জামায়াতে ইসলামীর এক নেতা নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর রাতে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি)।

বুধবার (২৮জানুয়ারি) রাত ১১টা ৫০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এই বিক্ষোভ শুরু হয়।

এ সময় শিক্ষার্থীরা শেরপুরে সংঘর্ষে জামায়াত নেতা রেজাউল করিম নিহতের ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। স্লোগানগুলোর মধ্যে ছিল—“আমার ভাই শহীদ কেন?”, “তারেক ভাই জবাব চাই”, “শেরপুরে শহীদ কেন—তারেক ভাই জবাব চাই” এবং “সন্ত্রাস আর রাজনীতি একসঙ্গে চলে না ”।

বেরোবির শিক্ষার্থী মো. সোহেল রানা বলেন,
“বিএনপি সন্ত্রাসীরা জামায়াতের ওপর হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় আমাদের একজন ভাইকে শহীদ করা হয়েছে। ৫ আগস্টের পর আমরা এমন রাজনীতি চাইনি। সেখানে প্রশাসন-ভিত্তিক একটি আয়োজন ছিল; কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে প্রশাসন সম্পূর্ণ নীরব ছিল। আমরা কি এমন প্রশাসন চেয়েছিলাম? না, আমরা এমন প্রশাসন চাইনি।
তারেক রহমান দেশে এসে বলেছিলেন, ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’। কিন্তু সেই প্ল্যান কি মানুষ খুন করার প্ল্যান? ৫ আগস্টের পর কোনো মানুষ খুনের রাজনীতি চলবে না, কোনো চাঁদাবাজির রাজনীতি চলবে না, কোনো সন্ত্রাসের রাজনীতি চলবে না।
আমরা তারেক রহমানকে বলতে চাই—নিজের দলকে নিয়ন্ত্রণ করুন। যদি নিজের দলকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারেন, তাহলে দেশ থেকে হাত গুটিয়ে লন্ডনে চলে যান। এ ধরনের রাজনীতি চলতে থাকলে জনগণ দাঁতভাঙা জবাব দেবে। তারা যদি এই রাজনীতি চালিয়ে যেতে চায়, তাহলে আগামী ১২ তারিখে জনগণ তাদের বিপক্ষে ব্যালট বিপ্লব ঘটাবে। ওই দিন জনগণ তাদের লাল কার্ড দেখাবে।
আমরা তাদের সতর্ক করে দিতে চাই—দুর্নীতি, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজির রাজনীতি বন্ধ করুন; নইলে এই দেশে আপনাদের রাজনীতি বিলুপ্ত হয়ে যাবে।
পরিশেষে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাই—আজ যারা এই সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে, তাদের অনতিবিলম্বে আইনের আওতায় নিয়ে আসুন।”

উক্ত ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী রাকিব মুরাদ বলেন,
“আমরা দেখেছি, খুনি হাসিনা এই বাংলাদেশে গুম–খুনের রাজনীতি শুরু করেছিল। তারা বলেছিল দেশকে কানাডা–সিঙ্গাপুর বানাবে; কিন্তু বাস্তবে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করেছে। পরবর্তীতে আমরা তাদের করুণ পরিণতিও দেখেছি।
৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে আমরা ভেবেছিলাম, বাংলাদেশে যারা রাজনীতি করে তারা এসব ঘটনা থেকে শিক্ষা নেবে। কিন্তু একটি গোষ্ঠী, যারা নিজেদের মধ্যে ২২১ জনের বেশি খুন করে যে প্র্যাকটিস করেছিল, সেই প্র্যাকটিসই এখন তারা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করার চেষ্টা করছে। আজ শেরপুরে তারা সেটাই করেছে।
তাদের হাতে অস্ত্র ছিল—এতে বোঝা যায়, এটি একটি পরিকল্পিত ঘটনা। তাদের পরিকল্পনা ছিল তাকে হত্যা করা এবং একই সঙ্গে এ দেশে নির্বাচন বানচাল করা। কিন্তু এই দেশের ছাত্র–জনতা কখনোই তা হতে দেবে না।”

আপনার পছন্দ হতে পারে