শেরপুরে এক নির্বাচনী সভায় বিএনপি নেতাকর্মীদের হাতে জামায়াত নেতা নিহত হওয়ার ঘটনা এবং দেশজুড়ে নারীর প্রতি সহিংসতা ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাত ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুরাদ চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বটতলায় এসে শেষ হয়। মিছিলে ছাত্রশিবিরের শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন। এসময় নেতাকর্মীদের বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায় ।
মিছিল শেষে সমাবেশে জাকসুর জিএস মাজহারুল ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রক্তদানের মাধ্যমে যে বাংলাদেশ অর্জিত হয়েছে, সেখানে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, খুন-গুম ও নৈরাজ্যের রাজনীতি থাকার কথা নয়। অথচ একটি পক্ষ জুলাইয়ের চেতনার বিরোধিতা করে পুরনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে চাইছে।
তিনি বলেন, নির্বাচনী ইশতেহার পাঠের অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতাকর্মীদের অতর্কিত হামলা কোনো সংঘর্ষ নয়, এটি ছিল পরিকল্পিত হামলা। পরবর্তীতে জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর ধারাবাহিক হামলায় স্থানীয় থানা সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম শহীদ হন।
মাজহারুল ইসলাম অভিযোগ করেন, বিএনপি আওয়ামী লীগের মতোই সন্ত্রাস, রাহাজানি ও নারী নির্যাতনের রাজনীতি ফিরিয়ে আনছে। তিনি বলেন, মা-বোনদের ওপর হামলায় জড়িতরা কখনোই জনগণের সমর্থন পাবে না। তিনি হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার, উসকানিদাতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের দাবি জানান। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের প্রতি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা এবং বায়াস জার্নালিজম বন্ধের আহ্বান জানান।
জাকসুর এজিএস ফেরদৌস আল হাসান বলেন, বিগত ১৭ বছর ধরে শেখ হাসিনা ঘুম-খুন ও দমন-পীড়নের রাজনীতির মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছিলেন, যার পরিণতিতে তাকে দেশ ছাড়তে হয়েছে। ইতিহাস ভুলে গেলে চলবে না ফ্যাসিবাদের পরিণতি কখনোই ভালো হয় না। তিনি তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করুন। বাংলাদেশে হত্যা ও সন্ত্রাসের রাজনীতি করার সুযোগ নেই। ছাত্র-জনতার শক্তি আপনারা ইতোমধ্যে দেখেছেন।
তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ প্রায় দুই হাজার ভাই-বোনের রক্তের বিনিময়ে আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই। যেখানে খুন, গুম, চাঁদাবাজি ও নারী নির্যাতনের রাজনীতি থাকবে না। এসব অপকর্মে জড়িতদের জনগণ কখনো ক্ষমা করবে না।
সমাবেশে শেরপুরে জামায়াত নেতাকে হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের কাছে দ্রুত বিচার দাবি করা হয়। একই সঙ্গে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সবার জন্য সমান সুযোগ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। শেষে শহীদ মাওলানা রেজাউল করিমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।