জামায়াতের ‘প্রথম জয়’ নাকি ২০ বছর পর বিএনপির ‘প্রত্যাবর্তন’?

ঢাকা-৫

by অনলাইন ডেস্ক
Site Favicon প্রকাশিত: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১৩:৩৬ আপডেট: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১৩:৪০
A+A-
Reset

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ক্ষণগণনা শুরু হতেই নির্বাচনী আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে রাজধানীর রাজপথে। সারাদেশের মতো যাত্রাবাড়ী, ডেমরা ও কদমতলীর (আংশিক) একাংশ নিয়ে গঠিত ঢাকা-৫ আসনেও বইছে ভোটের হাওয়া।

এই আসনের প্রার্থীরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগে; ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে চাইছেন সমর্থন ও ভোট।

নির্বাচনী এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, এ আসনে বেশ কয়েকজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও ভোটের মূল লড়াইটা হবে মূলত বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের মধ্যে। তবে ভোটারদের মতে, মাঠের লড়াইয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীও বেশ শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। বড় দলগুলোর প্রার্থী পরিবর্তনের সমীকরণ আর আঞ্চলিক জনপ্রিয়তার ওপর ভিত্তি করে এই আসনে এবার ত্রিমুখী এক লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

ঢাকা-৫ আসনে প্রায় ৫ লাখ ভোটার রয়েছেন। যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ, ধলপুর, গোলাপবাগ, নুরপুর, পাটেরবাগ, ইসলামবাগ, জনতাবাগ, স্মৃতিধারা, রায়েরবাগ, জনতাবাগ, দনিয়া, সরাই, রসুলপুর, কুতুবখালী, ছনটেক, শেখদী, গোবিন্দপুর, কাজলার পাড়, মাতুয়াইল, কোনাপাড়া, ডগাইর, মোমেনবাগ, রহমতপুর, মুসলিমনগর, মধুবাগ, খানবাড়ী, আদর্শবাগ, রায়েরবাগ, বামৈল, ডগাইর, সারুলিয়া— এসব এলাকা নিয়ে আসনটি গঠিত।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নানাভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন প্রার্থীরা। এই এলাকায় এখন নির্বাচনী আমেজ বিরাজ করছে।

আসন্ন নির্বাচনে ঢাকা-৫ আসনে মোট ১১ জন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে ভোটের লড়াইয়ে নেমেছেন। তারা হলেন- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মো. নবী উল্লা, জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ কামাল হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. ইবরাহীম, গণঅধিকার পরিষদের সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির তোফাজ্জল হোসেন মোস্তফা, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের (মুক্তিজোট) মো. তাইফুর রহমান রাহী, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) শাহিনুর আক্তার সুমি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপির মো. হুমায়ূন কবির, জাতীয় পার্টি-জেপির মীর আব্দুস সবুর, বাংলাদেশ লেবার পার্টির মো. গোলাম আযম এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. সাইফুল আলম।

প্রতীকের চেয়ে এলাকার উন্নয়নই এখন বড় ইস্যু

যাত্রাবাড়ী এলাকার বাসিন্দা নাসের হোসাইন বলেন, “এই আসনে বেশ কয়েকজন প্রার্থী থাকলেও বিএনপি ও জামায়াত মনোনীত প্রার্থীর প্রচারণা ও গণসংযোগ সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ছে। তাই মনে হচ্ছে, মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা এই দুই প্রার্থীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। তবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীও বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন বলে আমার ধারণা।”

মাতুয়াইলের বাসিন্দা রহমত হোসেন তার এলাকার দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে বলেন, “আমাদের এলাকায় সমস্যার শেষ নেই। রাস্তাঘাটের বেহাল দশা আর জলাবদ্ধতার কারণে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। তাই এবার কোনো প্রতীক দেখে নয়, বরং যিনি এই সমস্যাগুলো সমাধানে আন্তরিকভাবে কাজ করবেন, তাকেই আমরা ভোট দেব।”

তিনি আরও যোগ করেন, “প্রার্থীরা নির্বাচনের আগে অনেক বড় বড় প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু ভোটের পর সেগুলো কতটুকু বাস্তবায়ন হয়, সেটিই দেখার বিষয়। আমরা এবার প্রতিশ্রুতির চেয়ে কাজের প্রতিফলন বেশি দেখতে চাই। এলাকার টেকসই উন্নয়নই প্রধান দাবি।”

আপনার পছন্দ হতে পারে